'বিয়েতেই লুকিয়ে সব সমস্যার সমাধান'...চিরাচরিত এই ধারণাকেই এবার প্রত্যাখ্যান করছে দেশের মহিলারা। শুধু কেরিয়ারের জন্য নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে একাধিক কারণ। সম্প্রতি জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তর (এনএসও)-র সমীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। আর সেখানেই দেখা গিয়েছে নারীদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড়সড় পরিবর্তন। এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে, তরুণী ও প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের একটি বড় অংশ এখন বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অথবা অনেকেই দেরিতে বিয়ে করছেন।
2
8
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'টাইমস অফ ইন্ডিয়া'-য় প্রকাশিত এই সমীক্ষা থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, বিয়েকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ভাবতে নারাজ বর্তমান যুগের মহিলারা। কিছুজনের ক্ষেত্রে নিজের উপার্জন এবং স্বনির্ভরতা বিয়ের আর্থিক প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দিয়েছে। আবার কেউ কেউ সাংসারিক দায়িত্ব, মাতৃত্ব নিয়ে প্রত্যাশা এবং বিয়ের পর কেরিয়ারের স্বাধীনতা হারানোর আশঙ্কা থেকে বিয়ের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসছেন।
3
8
ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২-৯৩ সালে যেখানে ২০-৪৯ বছর বয়সি ভারতীয় মহিলাদের বিয়ের বয়স ছিল গড়ে ১৬.২ বছর। তা ২০১৯-২১ সালে বেড়ে হয়েছে ১৯.২ বছর।
4
8
সমীক্ষা অনুযায়ী বেশ কিছু নির্দিষ্ট আর্থ-সামাজিক কারণকে চিহ্নিত করা গিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-
১। আর্থিক স্বাধীনতা ও শিক্ষা: মহিলাদের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ, বর্তমানে বিয়ের অনেক আগেই তাঁরা আর্থিক এবং শিক্ষাগত দিক থেকে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। কেন্দ্রের অল ইন্ডিয়া সার্ভে অন হায়ার এডুকেশন (আইশি)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষায় বর্তমানে মহিলাদের নথিভুক্তকরণ উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। শিক্ষাগত দিক থেকে স্বাবলম্বী হওয়ায় নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। ফলে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা অনেকটা সময় ও স্বাধীনতা উপভোগ করছেন।
5
8
২। বিয়ের বয়সে পরিবর্তন: ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস (এনএসও) এবং অন্যান্য সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে অবিবাহিত নারীর সংখ্যা ২০১১ সালের ১৩.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২১ সালে প্রায় ১৯.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, নারীদের বিয়ের প্রাথমিক গড় বয়সও আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে।
6
8
৩। সংসারের অসম দায়িত্ব: সমীক্ষা এবং নানা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভারতীয় নারীদের রোজদিন অধিকাংশ সময় ঘরকন্না বিনাবেতনে ঘরকন্না এবং গৃহস্থালি কাজে ব্যয় করতে হয়। যা পুরুষদের তুলনায় অনেকটাই বেশি। আর্থিক স্বাধীনতার কারণে নারীরা এখন এই গতানুগতিক পারিবারিক কাঠামোর বাইরে নিজেদের জীবন নতুন ভাবে নির্মাণ করছেন।
7
8
৪। সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি: প্রতিবেদনে অনুযায়ী, বর্তমানে স্বাবলম্বী নারীদের কাছে বিয়ে আর কেবল আর্থিক বা সামাজিক নিরাপত্তার জায়গা নয়। বরং জীবনসঙ্গী হিসেবে এমন কাউকে প্রাধান্য দিতে চাইছেন, যে নারীকে সম্পত্তি হিসাবে বিচার করবে না। বরং সমানাধিকার, যোগ্য সম্মান, সমান দায়িত্বভাগে বিশ্বাস করবে। তাঁরা বিয়েতে ক্রমাগত আপস, দায়িত্ব কিংবা নিজের স্বাধীনতা হারানোর ভয় থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে চাইছেন। মনে করছেন, এর চেয়ে একা থাকা ভাল বিকল্প।
8
8
তবে নারীদের একা থাকা এখনও বহু সামাজিক জটিলতার সম্মুখীন। অবিবাহিত মহিলাদের এখনও বাড়ি, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, স্বাস্থ্য পরিষেবা,সন্তান ধারণ, সন্তান দত্তক নেওয়ার ক্ষেত্রে একাধিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তা সত্ত্বেও অনেক মহিলা এখন ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিজেরাই করছেন। স্বামী বা সন্তানই তাঁদের বার্ধক্যের একমাত্র অবলম্বন, এমন ধারণা বদলে তাঁরা সঞ্চয়, সম্পত্তি, স্বাস্থ্য পরিষেবা দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।