আজকাল ওয়েবডেস্কঃ জলবায়ু পরিবর্তন এবং 'এল নিনো'-র আবহাওয়া পরিস্থিতির জোড়া প্রভাবে বিশ্বের স্থলভাগ ও সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা এক লাফে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। এর ফলে ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম 'মে' মাস পার করেছে গোটা বিশ্ব। বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস' (সি৩এস) এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছে।

 

সংস্থাটির তরফে ১৯৪০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আবহাওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালই ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম মে মাস। 'কোপার্নিকাস'-এর প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত মূল তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ১৯ শতকের প্রাক-শিল্পায়ন যুগের গড় তাপমাত্রার চেয়ে ১.৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

 

বছরের শুরুর দিকেই পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি ভয়াবহ দাবদাহের মুখোমুখি হয়েছিল। বিজ্ঞানীরা অবশ্য আগেই এমন সতর্কতা জারি করেছিলেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে এমন চরম আবহাওয়া দেখা যাবে। শেষমেশ তাই সত্যি হল।

 

'এল নিনো' পরিস্থিতির কারণে প্রশান্ত মহাসাগরের কিছু অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা ছিল। তাই ওই সমস্ত অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গত মাসে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার দেখা গিয়েছে। একদিকে যেমন তীব্র দাবদাহ, অন্যদিকে চিন এবং তুরস্কে আকস্মিক ও মারাত্মক বন্যা পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে।

 

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী মাসগুলিতে 'এল নিনো' পুরোপুরি সক্রিয় হয়ে উঠবে। যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও টালমাটাল করে তুলবে। সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর প্রাকৃতিকভাবেই 'এল নিনো'র সৃষ্টি হয়। এর ফলে আয়ন বায়ু বা ট্রেড উইন্ডস দুর্বল হয়ে পড়ে।পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের জলও অনেক বেশি উষ্ণ হয়ে ওঠে। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা যেমন বৃদ্ধি পায়। তেমনি বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক নিয়মও ওলটপালট হয়ে যায়। যার ফলে বিশ্বের কোথাও দেখা দেয় তীব্র খরা। আবার কোথাও নেমে আসে অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যা।