আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক মাসের বেশি বিক্ষোভ। শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে লাগাতায় নিশানায় মোদি সরকার। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি। শেষে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিতেই উল্লাসে মেতেছে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)। সেই ভিডিও ভাইরাল হতেই বিতর্ক বাঁধে। যা নিয়ে মুখ খুলেছেন এই আন্দোলনের সমর্থনে ২৬দিন অনশনকারী সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। তাঁর সাফ কথা, "বিজয়ের সঙ্গে বিনয় থাকাও আবশ্যক।" তিনি সিজেপি-র সমর্থকদের "মর্যাদা, সংযম ও দায়িত্ববোধের" সঙ্গে 'বিজয়' উদযাপন করার আহ্বান জানান।
দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি-র নেতৃত্বে চলা ছাত্র আন্দোলনের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছিলেন ওয়াংচুক। অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরুর পর তিনি সিজেপি বিক্ষোভকারীদের পাশে ছিলেন। পরে পুলিশ তাঁকে জোর করে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। ২৩ জুলাই তিনি তাঁর ২৬ দিনের অনশন ভঙ্গ করেন। এর আগে সরকার তাঁকে নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে, ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা হবে না এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে আত্মহত্যা করা নিট পরীক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
সমালোচনার মুখে সিজেপি
দু'মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ব্যঙ্গাত্মক পেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সিজেপি-র উদযাপনের ভিডিওগুলো অনলাইনে তীব্র সমালোচিত হয়েছে। আন্দোলনের সমর্থক ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ- উভয় পক্ষই এই উদযাপনের সময় ও দৃশ্যপট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক ব্যবহারকারী যুক্তি দেন যে, নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের পর শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলন আংশিকভাবে গড়ে উঠেছিল, তাই এই উদযাপন ছিল অসংবেদনশীল। আবার অনেকেই সিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, যখন বিভিন্ন রাজ্যে সাধারণ বিক্ষোভকারীরা এখনও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন, তখন তারা উদযাপন করছেন।
এই সমালোচনার মুখে সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ভিডিওগুলোতে তরুণ প্রজন্মের মানসিকতাই প্রতিফলিত হয়েছে।
সোমবার 'এক্স'-এ সৌরভ দাস লেখেন, "যত সময় প্রয়োজন, আমরা রাস্তায় বসে থাকতে পারি। আমরা নাচতে নাচতে প্রতিবাদ করতে পারি। আমরা কোল্ড কফি খেতে খেতেও সংগঠিত হতে পারি।" তিনি আরও লেখেন, "এই প্রজন্ম এমনই- আত্মবিশ্বাসী, সৃজনশীল, সহনশীল এবং যাঁদের কোনো গৎবাঁধা ছাঁচে ফেলা অসম্ভব।" তাঁর দাবি, "সরকার এবং কিছু টেলিভিশন উপস্থাপক "জেন-জি ও তরুণ প্রজন্মের ভাষা মোটেও বোঝেন না"। তিনি মন্তব্য করেন, "ওইসব 'আঙ্কেল-আন্টি'রা অভিযোগ করতেই পারেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের আমাদের সঙ্গেই কাজ চালাতে হবে!"
পাঁচ-তারকা হোটেলে পার্টি?
সমালোচকদের মধ্যে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি। তিনি অভিযোগ করেন যে, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর সিজেপি নেতৃত্ব একটি পাঁচ-তারকা হোটেলে পার্টি করছিলেন। তিনি 'এক্স'-এ লিখেছেন, "সিজেপি-র নেতৃত্বে একটি হোটেলে বিজয়-উৎসব বা পার্টি করা হচ্ছে! দিল্লিতে যখন দিনের পর দিন হিংসা চলেছে, তখন তথাকথিত এই যুব-কর্মীরা গান-বাজনা চালু করে নাচানাচি শুরু করলেন। এই পুরো আন্দোলনজুড়ে যাতায়াত, খাবার, থাকা-খাওয়া, সরঞ্জাম ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার খরচ কে জুগিয়েছে?"
তবে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত বিলাসবহুল ছিল, এমন অভিযোগ সিজেপি-র তরফে সৌরভ দাস উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি একটা বিষয় পরিষ্কার করতে চাই- যখনই এমন ছবি সামনে আসে, মানুষ তখন অতিরঞ্জিত করে ফেলে। ওটা কোনও পাঁচ-স্টার হোটেল ছিল না। ওটা ছিল টু বা বড়জোর থ্রি-স্টার হোটেল।"
সৌরভ দাসের মতে, প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবককে সম্মান জানানোর জন্য একটি বেসমেন্ট হলে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। তাঁদের অর্ধেকেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক অন্য রাজ্য থেকে এসেছিলেন এবং আন্দোলনের সময় ৩৭ দিন ধরে রাস্তায় কাটিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "তাঁরা বাড়ি ফিরে যেতে চেয়েছিলেন। আমরা তাঁদের সম্মান জানাতে চেয়েছিলাম।"
















