আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০১৪ সালের পর থেকে দেশের একাধিক রাজ্যে কৃষিশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি—এই বিষয়টি রাজ্যসভায় তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের জবাবদিহি চাইলেন কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি ও রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। দ্য ট্রিবিউন পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি সপ্তাহে রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে খাড়গে জানতে চান, কেন গত এক দশক ধরে কৃষিশ্রমিকদের মজুরি কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, মূল্যবৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার পরেও মজুরি সংশোধন না হওয়া গভীর উদ্বেগের বিষয়।

খাড়গের প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী শোভা করান্দলাজে জানান, কৃষিশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় ন্যূনতম মজুরি আইন, ১৯৪৮ অনুযায়ী, এবং এই আইন কার্যকর করার দায়িত্ব কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয়ের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে। তবে কেন ২০১৪–১৫ সালের পর থেকে বহু রাজ্যে এই মজুরি সংশোধন করা হয়নি—সে বিষয়ে মন্ত্রী কোনও নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

মন্ত্রী সংসদে জানান, ন্যূনতম মজুরি আইন, ১৯৪৮ এখন কোড অন ওয়েজেস, ২০১৯-এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দ্য ট্রিবিউন অনুযায়ী, চারটি শ্রম কোডের বৃহত্তর সংস্কারের অংশ হিসেবে এই আইনটি ২১ নভেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হয়েছে। ২০১৯ সালের আগস্টে সংসদে পাস হওয়া কোড অন ওয়েজেস একটি ছাতার মতো আইন, যার আওতায় চারটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রম আইন একত্র করা হয়েছে—

পেমেন্ট অব ওয়েজেস অ্যাক্ট, ১৯৩৬

ন্যূনতম মজুরি আইন, ১৯৪৮

পেমেন্ট অব বোনাস অ্যাক্ট, ১৯৬৫

ইক্যুয়াল রিমিউনারেশন অ্যাক্ট, ১৯৭৬


সরকারের দাবি, এই নতুন আইন সংগঠিত ও অসংগঠিত—উভয় ক্ষেত্রের সমস্ত কর্মীর জন্য ন্যূনতম মজুরির আইনগত অধিকার নিশ্চিত করে।
শোভা করান্দলাজে বলেন, কোড অন ওয়েজেসের লক্ষ্য হলো ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য রোধ করা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “এই আইন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার—উভয়কেই তাদের নিজ নিজ এক্তিয়ারের আওতায় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, পর্যালোচনা ও সংশোধনের ক্ষমতা দেয়।”

কিন্তু বিরোধীদের মতে, আইনি কাঠামো থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ না হওয়াটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। বিশেষ করে কৃষিশ্রমিকদের ক্ষেত্রে—যাঁরা দেশের সবচেয়ে দুর্বল ও অসংগঠিত শ্রমিক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত—দীর্ঘদিন ধরে মজুরি সংশোধন না হওয়া সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্ন তুলছে।

কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, নতুন শ্রম কোড কার্যকর হওয়ার ঘোষণায় সমস্যার সমাধান হয় না, যদি বাস্তবে রাজ্যগুলিকে মজুরি সংশোধনে বাধ্য করার কোনও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হয়। এক দশক ধরে কৃষিশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি অপরিবর্তিত থাকা সরকারের শ্রমনীতি ও গ্রামীণ অর্থনীতির প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

এই প্রেক্ষাপটে খাড়গের উত্থাপিত প্রশ্ন শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিতই নয়, বরং দেশের কৃষি ও শ্রমনির্ভর অর্থনীতির ভিত কতটা নড়বড়ে হয়ে উঠছে, তারও প্রতিফলন।