আজকাল ওয়েবডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা আইনে (NSA) বন্দি পরিবেশবিদ ও বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুককে শনিবার ভোরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় যোধপুরের অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (AIIMS)-এ নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল প্রায় ৬টা ৩০ নাগাদ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে হাসপাতালের পিছনের গেট দিয়ে প্রবেশ করানো হয়।
প্রথমে তাঁকে ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন (PMR) বিভাগে নেওয়া হলেও পরে আউটডোর পেশেন্ট ডিপার্টমেন্টে (OPD) তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় ঘণ্টা পরীক্ষার পর তাঁকে পুনরায় যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগের দিন শুক্রবারও ওয়াংচুকের একটি মেডিক্যাল চেক-আপ হয় এআইআইএমএস-এ।
হাসপাতাল সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সোনম ওয়াংচুক দীর্ঘদিন ধরেই পেট সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন এবং শরীরের একাধিক অংশে ব্যথার অভিযোগ করেছেন। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের অনুমান, যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে ব্যবহৃত পানীয় জলের গুণমানের সঙ্গে এই অসুস্থতার যোগ থাকতে পারে। যদিও শুরুতে পিএমআর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শের পরিকল্পনা ছিল, শেষ পর্যন্ত জরুরি বিভাগে একজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট তাঁর পরীক্ষা করেন। এরপরই তাঁকে পুনরায় জেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ওয়াংচুকের ক্রমাবনত স্বাস্থ্যের কথা তুলে ধরে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। আইনজীবীর মাধ্যমে দায়ের করা আবেদনে তিনি জানান, তাঁর স্বামী কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র পেটের যন্ত্রণায় ভুগছেন, যার অন্যতম কারণ জেলের পানীয় জল। আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, জেলে নিয়মিত কোনও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আসছেন না। তাই তিনি সপ্তাহে অন্তত একবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দ্বারা পরীক্ষা, পাশাপাশি পরিবারের পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহের অনুমতি চেয়েছেন।
এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত যোধপুর সেন্ট্রাল জেল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে, সরকারী হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে সোনম ওয়াংচুকের পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল পরীক্ষা করাতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত একটি সিলবন্দি রিপোর্ট ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আদালতে জমা দিতে হবে।
গীতাঞ্জলি আংমো সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, “৮ জানুয়ারি, ১২ জানুয়ারি এবং ২৯ জানুয়ারি—এই তিনটি শুনানিতে মোট সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে সোনম ওয়াংচুকের আটকের এদেশে একাধিক প্রক্রিয়াগত ত্রুটি এবং তাঁর ভিডিওগুলির ইচ্ছাকৃত ভুল ব্যাখ্যা আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ২ ফেব্রুয়ারি অপর পক্ষের বক্তব্য শোনা হবে।” জেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোনম ওয়াংচুককে এখনও পর্যন্ত জেল চিকিৎসকেরা ২১ বার পরীক্ষা করেছেন। তবে তাঁর পরিবার ও আইনজীবীদের দাবি, এই পরীক্ষাগুলি পর্যাপ্ত নয় এবং দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সোনম ওয়াংচুক যোধপুর সেন্ট্রাল জেলে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে রয়েছেন। লাদাখের লেহ এলাকায় সংঘর্ষ সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে এনএসএ-র আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়। একজন পরিবেশকর্মী ও বিজ্ঞানীর স্বাস্থ্য নিয়ে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে এই অনিশ্চয়তা শুধু মানবাধিকার নয়, আইনের শাসন সম্পর্কেও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে—যার উত্তর এখন সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন শুনানির দিকেই তাকিয়ে।
