আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিত্যদিন নানাধরনের খাবার তৈরি করে থানার সমস্ত পুলিশ কর্মীদের খাওয়াতেন। সেই রাঁধুনির মেয়ের বিয়েতে আত্মীয় হয়েই দায়িত্ব পালন করলেন পুলিশ কর্মীরা। পাত্রীকে লক্ষ লক্ষ টাকার উপহার দিয়ে ভরিয়ে দিলেন। স্থানীয় থানার পুলিশ কর্মীর এহেন কাণ্ডে রীতিমতো চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে সকলের। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানে। জানা গেছে, জয়পুরের কালওয়াড় থানার সমস্ত পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা পরিবার হিসেবেই ওই বিয়ের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন। ওই থানার পুলিশ কর্মীদের জন্য যে রাঁধুনি নিত্যদিন খাবার বানিয়ে দেন, তাঁর মেয়ের বিয়ে ছিল। যামিনী কানওয়ারের বিয়েতেই হাজির হন ওই পুলিশ কর্মীরা। 

জানা গেছে, পাত্রীর মা হিম্মত কানওয়ার গত দশ বছর ধরেই ওই থানার পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের জন্য খাবার বানিয়ে দেন। স্বামীর মৃত্যুর পর, পরিবারের মতোই পাশে পেয়েছেন ওই পুলিশ কর্মীদের। গত বছর নভেম্বর মাসে মেয়ের বিয়ের দিনক্ষণ স্থির হয়। তখনই স্টেশন হাউস অফিসার নবরত্ন ধোলিয়া আত্মীয়দের মতোই পাশে থাকার আশ্বাস দেন। রাঁধুনির মেয়ের বিয়ের খরচ সহ সমস্ত দায়দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। 

তাঁর নেতৃত্বেই গোটা থানার পুলিশ কর্মীর হাজির হন মালিওয়াড়া গ্রামে। সেখানেই ছিল বিয়ের আসর। স্রেফ নিমন্ত্রিত হয়ে বিয়েতে হাজির ছিলেন না তাঁরা। আত্মীয়দের মতোই সমস্ত দায়িত্ব পালন করেন।‌ অভিভাবকদের মতো কাজ সামলান সকলে। যামিনী কুমারের পাশেই ছিলেন সকলে। 

থানার পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীরা মিলে যামিনীকে ৬ লক্ষ ২১ হাজার টাকার উপহার তুলে দেন। যার মধ্যে নগদ চার লক্ষ ২১ হাজার টাকা ছিল। আর ছিল, ২ লক্ষ টাকার সোনার গয়না। বিছানা, রান্নার ও ঘরের আরও প্রয়োজনীয় সামগ্রীও তাঁকে উপহার হিসেবে দেন। 

বিয়ের অনুষ্ঠান আরও জাঁকজমকপূর্ণ করতে, ব্যান্ড পার্টিও নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা। থানা থেকে বিয়ের আসর পর্যন্ত শোভাযাত্রা করে বেরিয়ে পড়েন। ব্যান্ড পার্টির সঙ্গে নাচতে নাচতে পৌঁছন বিয়ের আসরে। ওই বিয়েতেই পুলিশ আধিকারিক ধোলিয়া যামিনীর ঠাকুরদার ভূমিকা পালন করেন। বাকিরা যামিনীর মামা হিসেবে সমস্ত আচার পালন করেন। 

ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিয়ের আসরের ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। পুলিশ কর্মীদের কাণ্ড কেঁদে ফেলেন হিম্মত। এমনকী যামিনীর আত্মীয় ও অন্যান্য নিমন্ত্রিতদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন পাত্রপক্ষ।