আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবিবাহিত অবস্থায় মারা গিয়েছেন ছেলে। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া শুক্রাণু কি ব্যবহার করতে পারবেন বাবা-মা? বংশরক্ষার এই অধিকার কি বাবা-মায়ের আছে? এই সংবেদনশীল ও জটিল আইনি প্রশ্নে এখন তোলপাড় গোটা দিল্লি শহর। মুখোমুখি কেন্দ্র ও হাই কোর্ট।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির এক যুবক মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি একটি হাসপাতালে নিজের শুক্রাণু সংরক্ষণ করে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে দিল্লি হাই কোর্টের একটি একক বেঞ্চ রায় দেয় যে, যদি মৃত ব্যক্তির আপত্তি না থাকে, তবে তাঁর বাবা-মা সেই শুক্রাণু ফেরত পেতে পারেন। কিন্তু এই রায়ের বিরুদ্ধেই এবার আদালতে সওয়াল করল কেন্দ্রীয় সরকার।

 

কেন্দ্রের যুক্তি কী?

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট। তাদের মতে, ভারতের বর্তমান প্রজনন আইন অনুযায়ী, কেবল নিঃসন্তান দম্পতিরাই এই পদ্ধতির সাহায্য নিতে পারেন। মৃত ব্যক্তির বাবা-মা অর্থাৎ হবু ‘ঠাকুরদা-ঠাকুরমা’র হাতে এই অধিকার দেওয়ার কোনও আইনি সংস্থান নেই।

আবার সরকারের প্রশ্ন, ঘর-বাড়ির মতো শুক্রাণুকেও কি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সাধারণ সম্পত্তি হিসেবে গণ্য করা যায়? বিশেষ করে যখন মৃত যুবক কোনও লিখিত সম্মতি দিয়ে যাননি।

এভাবে জন্মানো শিশুর আইনি অভিভাবক কে হবেন বা তার সামাজিক অধিকার কী হবে, তা নিয়ে বড়সড় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে বর্তমানে মামলাটি বিচারাধীন। কেন্দ্র কেনো আপিল করতে দেরি করল, আদালত তা জানতে চেয়েছে। জানা গিয়েছে, আপাতত ওই যুবকের শুক্রাণু হাসপাতালেই সংরক্ষিত থাকছে। আবেগ বনাম আইন - এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় কার হবে, এখন সেটাই দেখার।