আজকাল ওয়েবডেস্ক: ধর্মশালা সরকারি কলেজের এক দলিত ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা ও র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপককে শনিবার সাসপেন্ড করল হিমাচল প্রদেশ সরকার। গত সপ্তাহে ১৯ বছর বয়সি ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়।

শিক্ষা সচিব রাকেশ কানওয়ার জানিয়েছেন, ভূগোলের সহকারী অধ্যাপক অশোক কুমারের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা দায়ের হওয়ার পরই তাঁকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষা অধিকর্তা অমরজিৎ শর্মা জানান, ওই তরুণী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ওই অধ্যাপকের যুক্ত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে। আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলবে। জানা গিয়েছে, সাসপেনশন চলাকালীন তিনি সিমলার শিক্ষা দপ্তরের সদর দপ্তরে থাকবেন। এমনকী অনুমতি ছাড়া এলাকা ছাড়তে পারবেন না।

ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গড়া হয়েছে। অতিরিক্ত শিক্ষা অধিকর্তা হরিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন এই কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। র‍্যাগিং, যৌন হেনস্থা এবং জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যের মতো বিষয়গুলি খতিয়ে দেখবে এই কমিটি।

অভিযুক্ত অধ্যাপক অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আগাম জামিন পাওয়া ওই শিক্ষকের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

হিমাচল প্রদেশের ধরমশালায় এক সরকারি কলেজে ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত যুবতী ওই কলেজেরই দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। পুলিশের দাবি, মৃত্যুর আগে নিজের মোবাইলে একটি ভিডিও রেকর্ড করে গিয়েছেন তিনি। সেখানে তিনি অভিযোগ করেছেন, কলেজের এক অধ্যাপক তাঁকে দিনের পর দিন কুপ্রস্তাব দিতেন ও অশালীনভাবে স্পর্শ করতেন। শুধু তাই নয়, তিন সহপাঠী মিলে তাঁর ওপর নৃশংস র‍্যাগিং চালিয়েছে বলেও ওই ভিডিওতে জানিয়েছেন তিনি।

ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, গত ১৮ সেপ্টেম্বর হর্ষিতা, আকৃতি এবং কমলিকা নামে তিন ছাত্রী তাঁর মেয়েকে প্রচণ্ড মারধর ও মানসিক হেনস্থা করে। মুখ খুললে তাঁকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। পাশাপাশি, কলেজের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক অশোক কুমারের বিরুদ্ধেও শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনেছেন তিনি। ছাত্রীর পরিবারের দাবি, এই দুদিকের অত্যাচারে তাঁদের মেয়ে ভেঙে পড়েছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় লুধিয়ানার একটি হাসপাতালে গত ২৬ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংবিধান এবং র‍্যাগিং বিরোধী আইনে ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ সুপার অশোক রতন জানান, "আগে শুধু র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ এসেছিল, কিন্তু ভিডিওটি সামনে আসার পর অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা শ্লীলতাহানির বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।" যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে কলেজের অধ্যক্ষ রাকেশ পাঠানিয়ার দাবি, ওই ছাত্রী প্রথম বর্ষে তিনটি বিষয়ে ফেল করেছিলেন। তাই নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি নেওয়া যায়নি। অধ্যক্ষের বক্তব্য, "ভর্তি হতে না পেরে মেয়েটি হয়তো মানসিক চাপে ছিল। ২৯ জুলাইয়ের পর থেকে সে কলেজেও আসেনি। আমাদের কাছে আগে কখনও কোনও অভিযোগ জানানো হয়নি।"

ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যুতে কলেজ ক্যাম্পাসে শোরগোল। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। একজন ছাত্রীর এইরকম মর্মান্তিক পরিণতিতে কলেজের নিরাপত্তা ও র‍্যাগিং বিরোধী নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেক অভিভাবক।