আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্যানসার আক্রান্ত স্বামী, চার সন্তানকে ফেলে রেখে আচমকাই পালিয়ে গেলেন গৃহবধূ। অবশেষে থানায় ফাঁস হল আসল ঘটনা। যা শুনেই পরিবারের মাথায় হাত। এমনকী চমকে উঠেছে পুলিশও। অবশেষে সবচেয়ে ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তরুণী। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে হিমাচল প্রদেশে। পুলিশ জানিয়েছে, চার সন্তান ও ক্যানসার আক্রান্ত স্বামীকে ছেড়েই হঠাৎ পালিয়ে যান এক তরুণী।‌ ঘটনাটি ঘটেছে মান্ডি জেলায়। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই এমন পদক্ষেপ করেছেন ওই তরুণী। প্রথমে অসুস্থ স্বামীর কাছেই চার সন্তানকে রেখে পালিয়ে যান তিনি। 

তল্লাশি অভিযান চালিয়ে গৃহবধূকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। যেখানে আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। থানায় গৃহবধূর পরিবারের সদস্যদের এবং তাঁর প্রেমিককেও তলব করা হয়। গৃহবধূকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেছিলেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু তরুণী সাফ জানিয়ে দেন, তিনি আর শ্বশুরবাড়িতে ফিরবেন না। প্রেমিকের সঙ্গে থাকতে চান। 

বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। সবচেয়ে ছোট সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে প্রেমিকের কাছে থাকতে রাজি হন তরুণী। বাকি তিন সন্তানকে ক্যানসার আক্রান্ত স্বামীর কাছেই রেখে যান। গৃহবধূর এহেন পদক্ষেপে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার।‌ অসুস্থ যুবক ও তিন খুদে সন্তানের দেখভালের দায়িত্ব পড়েছে তাঁর ভাইয়ের উপর। তরুণীর এই পদক্ষেপের জেরে নিন্দার ঝড় গোটা গ্রামে। 

প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই মাসে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল ঝাড়খণ্ডে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ঝাড়খণ্ডের সেরাইকেলা- খারসওয়ান জেলায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে স্বামীর সঙ্গে নিত্যদিন অশান্তি হত স্ত্রীর। সেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে ঘিরে স্বামীকে কুপিয়ে খুন করেন ২৯ বছরের তরুণী। 

জানা গেছে, অভিযুক্ত তরুণীর নাম, পূজা কুমারী। গত ১৫ জুলাই রাতে পাশাপাশি স্বামী, স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। ঘুমন্ত অবস্থাতেই রাজেশ কুমার মাহতা নামের যুবকের উপর কুড়ুল নিয়ে হামলা করেন পূজা। ঘুমন্ত অবস্থায় স্বামীকে একাধিকবার কুড়ুল দিয়ে কোপ মারেন। রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানাতেই রাজেশ কুমার মাহতার মৃত্যু হয়। 

পুলিশ আধিকারিক কুমার লুনায়েত জানিয়েছেন, স্বামীকে খুনের পরিকল্পনা আগেই করেছিলেন পূজা। তবে সঠিক সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ঘটনার দিন সন্তানদের অন্য ঘরে ঘুম পাড়িয়ে এসেছিলেন তিনি। রাজেশ খাওয়াদাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গভীর রাতে কুড়ুল নিয়ে রাজেশকে কোপ মারেন। 

রাজেশ মৃত্যু হয়েছে, তা নিশ্চিত হতেই ঘরের দরজা পিছন থেকে বন্ধ করে বেরিয়ে যান পূজা। এরপর তিন সন্তানকে ঘুম থেকে তুলে তিনি পালিয়ে যান। পরদিন সকাল থেকে গত কয়েকদিনে প্রতিবেশীরা তাঁদের কোনও সাড়াশব্দ পাননি। তাতেই সন্দেহ হয়। পুলিশে খবর দেন তাঁরা। রবিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।‌ বাড়ির দরজা ভেঙে উদ্ধার হয় রাজেশের পচাগলা দেহ। 

ঘরের মধ্যেই ছিল রক্ত মাখা কুড়ুলটি। ঘরের ছন্নছাড়া অবস্থা দেখেই পুলিশের সন্দেহ হয়। এদিকে প্রতিবেশীরা জানান, সন্তানদের নিয়ে স্ত্রী পূজা পলাতক। খুনের সন্দেহ হতেই পুলিশ পূজার খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অবশেষে আটক করে তাঁকে। দীর্ঘ পুলিশি জেরায় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কাঁদতে কাঁদতেই জানান, স্বামীকে তিনি খুন করেছেন। 

পূজা আরও জানিয়েছেন, তাঁর স্বামী, রাজেশ বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। অন্য এক তরুণীর সঙ্গে দিনের পর দিন কথা বলতেন ফোনে‌। প্রথমে সন্দেহ হলেও, পরে জানতে পারেন, সেই তরুণীর সঙ্গেই বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িত স্বামী। অবশেষে তিনি খুনের পরিকল্পনা করেন। পূজাকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে তারা। ঘটনার তদন্ত এখনও জারি রয়েছে। পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি এবং রক্তের দাগ লাগা দু'টি স্মার্টফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।