আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত দু’বছরে সিকিমে আত্মহত্যার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে আত্মহত্যার হার প্রায় ১৫.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০২২ সালে সিকিমে প্রতি লক্ষ জনসংখ্যায় আত্মহত্যার হার যেখানে ছিল ৪৩.১, ২০২৩ সালে তা কমে হয় ৪০.২। ২০২৪ সালে সেই গ্রাফ আরও নেমে দাঁড়িয়েছে ৩৬.৩-এ।
রাজ্যের এই সাফল্যে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সিকিমের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জি টি ধুঙ্গেল। এই উন্নতির জন্য তিনি স্বাস্থ্য দপ্তর, মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, স্কুল, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে যৌথ ভাবে কৃতিত্ব দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘ন্যাশনাল মেন্টাল হেলথ প্রোগ্রাম’, ‘টেলি-মানস’ এবং ‘সিকিম ইন্সপায়ার্স’-এর মতো সরকারি প্রকল্পের হাত ধরেই এই সাফল্য এসেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। এর পাশাপাশি মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকা ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রের খবর, কুসংস্কার দূর করতে প্রচার চালানো, আক্রান্তদের চিহ্নিত করা এবং শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো একগুচ্ছ পদক্ষেপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে আপৎকালীন জরুরি পরিষেবাও।
মানসিক অবসাদের লক্ষণ দেখলেই সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার ও এ নিয়ে খোলাখুলি কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কোনও রকম সমস্যা হলে ২৪ ঘণ্টার ‘টেলি-মানস’ হেল্পলাইনে যোগাযোগ করার জন্যও তিনি আর্জি জানিয়েছেন।
স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, এনসিআরবি-র এই রিপোর্ট প্রমাণ করে যে সঠিক কর্মসূচি ও সামাজিক সহযোগিতা কতটা জরুরি। তবে আত্মহত্যার হার আরও কমিয়ে আনতে এই লড়াই আগামী দিনেও জারি রাখতে হবে বলে মনে করছে দপ্তর।















