আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিজেপি-র আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখনই আসরে রাহুল গান্ধী। যন্তর মন্তরে গিয়ে সমর্থন জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে। পরে, মোদি সরকারের উপর চাপ বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে গিয়ে ধরনায় বসেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ। যা গোটা দেশের নজরকাড়ে। অস্বস্তি বাড়ে মোদি সরকারের। রাহুলকে টেনে হিঁচড়ে ওই এলাকা থেকে বার করে দেওয়া হয়। রাহুল গান্ধীর এই পদক্ষেপের নিন্দায় মুখর সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। গোটাটাই 'মেকি বা লোক দেখানো' বলে দাবি করেছেন তিনি।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'ইন্ডিয়া টুডে'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আংমো বলেন, রাজনীতিবিদরা এখন ওয়াংচুক ও তাঁর "সুনাম"-কে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষকে আর বোকা বানানো যাবে না। গত সপ্তাহে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও ওয়াংচুক হাসপাতাল থেকেই তাঁর অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার তাঁর অনশন ২৬তম দিনে পড়েছে।
সামাজিক উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ আংমো বলেন, "প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরের রাহুল গান্ধীর ওই বিক্ষোভে আন্তরিকতার অভাব ছিল। মানুষকে আর বোকা বানানো যাবে না। এ এক জাগ্রত ভারত। যারা অকৃত্রিম বা ভণ্ড, যুবসমাজ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।"
সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার সময় ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী মোদীর ৭, লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনের সামনে রাহুল ও কংগ্রেসের প্রবীণ নেতারা এক নজিরবিহীন অবস্থান-বিক্ষোভ করেছিলেন। তার দু'দিন পরেই আংমোর এই মন্তব্য করলেন। গত মঙ্গলবার মোদির বাসভবনের সামনে নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। রাহুলকে বিক্ষোভস্থল থেকে তুলে নিয়ে ও টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়ার পর আটক করা হয়। ধস্তাধস্তির সময় তাঁর নাক দিয়ে রক্তও পড়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর দোরগোড়ায় বিক্ষোভ নিয়ে গিয়ে কংগ্রেস মূলত আলোচনার মোড় ঘোরাতে চেয়েছিল। প্রশাসনিক ব্যর্থতার বিষয়টিকে সরিয়ে রাজনৈতিক মহলকে জবাবদিহির আওতায় আনার চেষ্টা করেছিল। সম্ভবত আংমো তাঁর মন্তব্যে এই বিষয়টিই বোঝাতে চেয়েছেন, কারণ এই আন্দোলনটি মূলত কোনও রাজনৈতিক বা বিরোধী দলের সমর্থন ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছে।
আন্দোলনটি অরাজনৈতিক: গীতাঞ্জলি আংমো
আংমো জোর দিয়ে বলেন যে, 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-র নেতৃত্বে পরিচালিত এই ছাত্র বিক্ষোভ রাজনৈতিক মহলকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কেবল প্রতীকী পদক্ষেপ বা লোক দেখানো আচরণে আর কাজ হবে না। তিনি বলেন, "এই আন্দোলন সব রাজনৈতিক নেতাকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখতে হবে। তারা আর মানুষকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না বা অকৃত্রিম আচরণ চালিয়ে যেতে পারবে না।" অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের চেভেনিং স্কলার আংমো জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই আন্দোলন কোনও রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে যুক্ত নয়।
আংমো বলেন, "আমাদের কাছে কোনও বিরোধী পক্ষ বা সরকার বলে কিছু নেই। আমাদের কাছে পার্লামেন্টই সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। আমরা চাই পার্লামেন্ট শিক্ষাকে একটি মৌলিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করুক।"
তবে আংমো জানান, যারা কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছাড়া আসবেন, তাদের এই আন্দোলনে স্বাগত জানান হবে। তিনি বলেন, "যারা নিজস্ব কোনও এজেন্ডা নিয়ে আসবেন, তারা ছিটকে পড়বেন। কারণ এই আন্দোলনের জন্ম হয়েছে আন্তরিকতা ও সততা থেকে।"
সোনম ওয়াংচুকের নতুন দাবিদাওয়া
গত ১৮ জুলাই যন্তর মন্তরের বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই ওয়াংচুকের পাশে অবিচলভাবে রয়েছেন আংমো। লাদাখি এই আন্দোলনকারীকে প্রথমে সরকারি সাফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে আংমোর করা আবেদনের প্রেক্ষিতে দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে নিজের পছন্দমতো হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেয়।
বুধবার ওয়াংচুক একটি চিঠি প্রকাশ করেন, যেখানে অনশন ভাঙার শর্ত হিসেবে তাঁর দাবিগুলো তুলে ধরা হয়। তিনি সরকারের কাছে এই নিশ্চয়তা চেয়েছেন যে, ২০ জুলাইয়ের মিছিলে অংশগ্রহণকারী কোনও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।
তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মূল দাবিটি এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। ওয়াংচুকের এই অবস্থানকে তাঁর সুর কিছুটা নমনীয় করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও ওয়াংচুক জানিয়েছেন, (কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং) যাঁরা এই সপ্তাহের শুরুর দিকে হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন, তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
















