আজকাল ওয়েবডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। যেখানে আনন্দ আর উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে নেমে আসে অপরাধের নাটকীয় পরিণতি। বিয়ের মণ্ডপে হানা দিল পুলিশ। সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হল বরকে। ছুটতে ছুটতে থানায় গেলেন কনে। পুলিশ করলেন এক অদ্ভুত আবেদন।

জানা দিয়েছে ভোপালে বুধবার দুপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে পুলিশ পৌঁছে সেখান থেকে গ্রেপ্তার করে গ্যাংস্টার আকাশ নীলকন্ঠকে। তাঁর অপর নাম ভুরা। সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পুলিশের দাবি করেছে, তিনি একটি অপরাধ গোষ্ঠীর নেতা অর্থাৎ গ্যাংস্টার। পুলিশ বরকে নিয়ে চলে গেলে উপস্থিত অতিথিরা হতবাক হয়ে যান। বিয়ের মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগেই এই ঘটনা ঘটে। হবু বর গ্রেপ্তার হতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন কনে। 

এর কিছুক্ষণ পর কনে সীমা থানায় পৌঁছন। হাতে তখনও গাঢ় মেহেন্দি। মুখে ছিল হলুদের ছাপ। কাঁদতে কাঁদতে তিনি পুলিশের কাছে অনুরোধ করেন, “স্যার, আমার গোটা জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। আমার কী দোষ বলুন? আমি জানতাম না ও অপরাধ করেছে। কী ধরণের অপরাধ সে নিয়েও আমার কোনও ধারণা নেই।” তিনি পুলিশকে জানান, বাড়িতে অতিথিরা অপেক্ষা করছেন। সব আচার অনুষ্ঠান প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে। সীমা পুলিশের কাছে অনুরোধ করেন, অন্তত দু’ঘণ্টার জন্য আকাশকে ছেড়ে দেওয়া হোক। তাহলে বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পূর্ণ করা যাবে। 

পুলিশ সেই অনুরোধে কর্ণপাত করেনি। এরপর কনে আরও একটি অদ্ভুত প্রস্তাব দেন। যদি ছাড়াই না যায়, তাহলে যেন পুলিশ হেফাজতেই বিয়ের অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ তাতেও রাজি হয়নি। 

আকাশের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁরই শাগরেদ রাজামজি ঠাকুর, অভিষেক উপাধ্যায়, অভিষেক মিনা, নিরাজ খানগে এবং অমিত ওসওয়ালকে। সব অভিযুক্তকে পরে আদালতে তোলা হয়। সেখান থেকে তাদের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, এই গোষ্ঠীর নাম স্থানীয়ভাবে ইল্লিগাল গ্যাং। ২০১৮ সাল থেকে এই দলটি ভোপালে সক্রিয়। দলের সদস্য প্রায় ৫০ জন যুবক। তাঁদের অনেকেই গলায় ইল্লিগাল শব্দটি ট্যাটু করিয়ে রেখেছে। এটি তাঁদের পরিচয় ও আনুগত্যের প্রতীক বলে মনে করা হয়। 

পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, আকাশের বিরুদ্ধে ৩১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে খুনের মতো গুরুতর অভিযোগও আছে। ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ ভোপালে এক রাজনৈতিক নেতাকে খুন করা হয় এই দলের মাধ্যমে। নিহত ব্যক্তি ছিলেন সুরেন্দ্র কুশওয়া। তিনি বিজেপি যুব মোর্চার এক স্থানীয় পদাধিকারী ছিলেন। এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন আকাশ। এই ঘটনায় তিনি প্রায় ১৮ মাস জেলে ছিলেন। চার মাস আগে জামিনে ছাড়া পান। 

পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক একটি অপহরণ মামলার তদন্তেই এই বিয়ের দিনের গ্রেফতারি। অভিযোগ, গ্যাংয়ের সদস্যরা এক ২৬ বছরের পুরোহিতকে অপহরণ করে। তাকে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রেখে মারধর করা হয়। তার কাছে ৮ লক্ষ টাকা মুক্তিপণও দাবি করা হয়। না দিলে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হবে এমন হুমকিও দেওয়া হয়। পরে পুরোহিতের ভাইকে দিয়ে অনলাইনে ৫০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। বাকি টাকা কিস্তিতে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে, অবশেষে ওই পুরোহিত পালাতে সক্ষম হন। তিনি গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন কোহ-এ-ফিজা থানায়। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপর অভিযান চালিয়ে বিয়ের মণ্ডপ থেকেই ধরা হয় অভিযুক্ত গ্যাংস্টারকে। 

পুলিশ জানিয়েছে, সীমা ও আকাশ প্রায় ছয় বছর ধরে সম্পর্কে ছিলেন। দু’জনেই একই এলাকায় থাকতেন। বিয়ের প্রস্তুতিও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ের দিনই সবকিছু ভেঙে পড়ল।