আজকাল ওয়েবডেস্ক: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের এক বড়সড় ভাঙনের গুঞ্জন তীব্র হয়ে উঠেছে, যা রাজনৈতিক মহলে ‘অপারেশন টাইগার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে। জল্পনা ছড়িয়েছে যে, উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা (ইউবিটি) গোষ্ঠীর ৯ জন লোকসভা এমপির মধ্যে অন্তত ৬ থেকে ৭ জন সাংসদ দল ছেড়ে মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন। দলত্যাগ বিরোধী আইনের হাত থেকে বাঁচতে এবং সাংসদ পদ টিকিয়ে রাখতে অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬ জন সাংসদের একসঙ্গে দল ছাড়া প্রয়োজন, আর শিন্ডে শিবির দাবি করছে যে সেই সংখ্যাটি ইতিমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। এই জল্পনার মাঝেই বেশ কয়েকজন ইউবিটি এমপি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এবং খোদ একনাথ শিন্দেও গভীর রাতে দিল্লি পৌঁছানোয় এই ভাঙনের গুঞ্জন আরও জোরালো রূপ নিয়েছে।
এই সম্ভাব্য বিদ্রোহের পেছনে মূলত ক্ষমতা, অর্থ এবং সাংগঠনিক অসন্তোষের বিষয়টিকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকেরা। শিন্দে শিবিরের একাংশের দাবি, শিবসেনার ৬০তম প্রতিষ্ঠা দিবসে উদ্ধব ঠাকরে তাঁর ছেলে আদিত্য ঠাকরের রাজনৈতিক পদোন্নতি বা দলে তাঁর ভূমিকা আরও বড় করার পরিকল্পনা করছেন, যা নিয়ে দলের একাধিক প্রবীণ সাংসদ ক্ষুব্ধ। এর পাশাপাশি ক্ষমতার অলিন্দে থাকা এবং নিজেদের নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের জন্য বড় অঙ্কের সরকারি তহবিল পাওয়ার আশাও সাংসদদের দলবদলের অন্যতম বড় কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। যেমন, পারভানি কেন্দ্রের এমপি সঞ্জয় যাদবকে কেন্দ্রে মন্ত্রিত্বের টোপ এবং হিঙ্গোলির এমপি নাগেশ পাতিল আশতিকারকে আগামী নির্বাচনে টিকিটের পাশাপাশি বিপুল তহবিলের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন। অন্যদিকে, ওমরাজ নিম্বালকর নামের এক প্রভাবশালী এমপির শিন্ডে শিবিরে যোগ দেওয়ার বিষয়টি তাঁর বাবার হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করছে বলে সূত্রের খবর। মূলত ক্ষমতা ও অর্থের লোভ বনাম উদ্ধব ঠাকরের দলে ভবিষ্যৎ না দেখতে পাওয়ার আশঙ্কাই এই দলবদলের রাজনীতিকে উস্কে দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শিবসেনা (ইউবিটি) শিবিরে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। দলের প্রবীণ নেতা সঞ্জয় রাউত অত্যন্ত বিস্ফোরক অভিযোগ এনে দাবি করেছেন যে, বিরোধী দলের সাংসদদের কিনতে একেকজনকে রাতেই ১৫ কোটি টাকা পর্যন্ত অগ্রিম দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, দলবদল করতে চাওয়া নেতারা যেন পদত্যাগ করে তারপর যান। যদিও ইউবিটি শিবিরের দাবি, কিছুদিন আগেই একটি বৈঠকে সাংসদেরা উদ্ধব ঠাকরের প্রতি তাঁদের আনুগত্যের শপথ নিয়েছিলেন এবং দল ছাড়ার খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তবে ঝুঁকি না নিয়ে দল বাঁচাতে ইতিমধ্যেই ইউবিটি-র পক্ষ থেকে সমস্ত এমপির উদ্দেশ্যে হুইপ জারি করে দিল্লিতে জরুরি বৈঠকে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেছেন যাতে কোনও দলত্যাগী গোষ্ঠীকে আলাদা ব্লক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া হয়। ২০২২ সালে যেভাবে শিন্দে ৩৯ জন বিধায়ক নিয়ে দল ভেঙেছিলেন, ঠিক একই ছকে এবার লোকসভা স্তরে শিবসেনা ইউবিটি-কে কোণঠাসা করার এই মরিয়া চেষ্টা মহারাষ্ট্রের রাজনীতিকে আবারও এক চরম নাটকীয় মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।















