আজকাল ওয়েবডেস্ক: টানটান লড়াই। বিহারের বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগণনায় প্রাথমিক প্রবণতায় এগিয়ে রয়েছেন জন সুরাজ পার্টির এই প্রার্থী। যদিও তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিজেপির নীরজ কুমার, খুব একটা পিছিয়ে নেই। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাঁকিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনের ষষ্ঠ দফার ভোট গণনার পর প্রশান্ত কিশোর ১১,৬০৩টি ভোট পেয়েছেন। নীরজ তাঁর চেয়ে মাত্র ৩,৪৫১ ভোটে পিছিয়ে আছেন।

বাঁকিপুর ছাড়াও মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া এবং গুজরাটের মঞ্জলপুরে গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। এই সবকটি রাজ্যই বিজেপি-শাসিত। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলনের পর এটিই প্রথম কোনও নির্বাচন। ধারণা করা হচ্ছে, এই নির্বাচনের ফলাফল দেশের (বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের) মনোভাবের ইঙ্গিত দেবে।

বাঁকিপুর, বিহার
বাঁকিপুর বিজেপির একটি শক্ত ঘাঁটি। এই কেন্দ্র থেকে পদ্ম বাহিনীর কোনও প্রার্থী কখনওই পরাজিত হননি। এই আসনের সর্বশেষ বিধায়ক ছিলেন বিজেপির নীতিন নবীন। রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি আসনটি ছেড়ে দেন। তবে এই নির্বাচনটি বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করছে। কারণ বিজেপির অভ্যন্তরীণ জটিলতা এবং নির্বাচনী ময়দানে প্রশান্ত কিশোরের বহু-প্রত্যাশিত অভিষেকের কারণে।

গত মাসে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার একদিন পরেই বিজেপির মনোনীত প্রার্থী অভিষেক কুমার সিনহা "পারিবারিক কারণ" দেখিয়ে সরে দাঁড়ান। এরপর বিজেপি যুবমোর্চার নেতা নীরজ কুমার সিনহা-কে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।

এই ঘটনা বিরোধী শিবিরে বাড়তি উদ্যম জুগিয়েছিল। বিরোধী নেতারা বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন যে, দলের প্রধানের ছেড়ে যাওয়া এই আসনে পরাজয়ের আশঙ্কায় দলের সবাই "বিচলিত" হয়ে পড়েছেন।

এদিকে, রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান তেজস্বী যাদব 'মোড় ঘোরান' ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন যে, তাঁর দলের প্রার্থী রেখা গুপ্তা জাতি, ধর্ম ও সামাজিক গোষ্ঠী নির্বিশেষে ভোটারদের সমর্থন পেয়েছেন এবং তিনিই জয়ী হবেন। 

দাতিয়া, মধ্যপ্রদেশ
'জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১'-এর বিধান অনুযায়ী ২রা এপ্রিল কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতীকে অযোগ্য ঘোষণার পর মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া বিধানসভা আসনটি খালি হয়ে যায়।

বর্তমানে, বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারি (যিনি তাঁর প্রথম বিধানসভা নির্বাচনে লড়ছেন) কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিংয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। তবে এই আসনটিকে রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের শক্ত ঘাঁটি  হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। অবশ্য ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মিশ্র এই আসনটি হাতছাড়া করেন। এবার প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়টি মিশ্রের সমর্থকদের অসন্তুষ্ট করেছে। এমনকি বিক্ষুব্ধরা ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

কুঁওয়ার ঘনশ্যাম সিং দু'বারের প্রাক্তন বিধায়ক এবং একসময়ের রাজপরিবারের সদস্য। তিনি ১৯৯৩ ও ২০০৩ সালে এই আসনে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি পুরনো আনুগত্য, ব্যক্তিগত সদিচ্ছা এবং বিজেপি কর্মীদের একাংশের মধ্যে থাকা অসন্তোষের ওপর ভরসা রাখছেন।

মঞ্জলপুর, গুজরাট
মঞ্জলপুর আসনটি খালি হয়ে যায় সেখানকার আসীন বিধায়ক বিজেপির যোগেশভাই নরনদাস প্যাটেলের মৃত্যুর পর। তিনি টানা তিন মেয়াদে এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছেন বিজেপির প্রাক্তন ভাদোদরা মিউনিসিপ্যাল ​​কর্পোরেশন কাউন্সিলর সতীশ গোবিন্দভাই প্যাটেল এবং প্রাক্তন মন্ত্রী ও গুজরাট কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ভিখাভাই রাবারির মধ্যে।

২০২২ সালে, ক্ষমতাসীন বিজেপি রাজ্যের নির্বাচনে ১৮২টি আসনের মধ্যে ১৫৬টিতে জয়লাভ করে রেকর্ড-ভাঙা সাফল্য অর্জন করেছিল।

মঞ্জলপুরে আসার আগে যোগেশ প্যাটেল ১৯৯০ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ভাদোদরার রাওপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন পাঁচবার। সীমানা পুনর্নির্ধারণের (ডিলিমিটেশন) পর এই আসনটি তৈরি হয় এবং তিনি ২০১২, ২০১৭ ও ২০২২ সালে জয়ী হন। এর মাধ্যমে তিনি ৩৬ বছরে বিধানসভায় টানা আটবার জয়ের নজির গড়েন।