আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এবং তাঁর পরিবারের ওপর আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগে চাপ বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (CMRL) দুর্নীতি মামলার তদন্তে কেরল জুড়ে একযোগে ১০টি স্থানে তল্লাশি অভিযান চালাল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই অভিযানের আওতায় খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন এবং তাঁর মেয়ে টি বীণার বাড়ি ছাড়াও, কোঝিকোড়ে বিজয়ন-এর জামাতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্তমান বিধায়ক পি এ মুহাম্মদ রিয়াসের বাসভবনেও হানা দেন ইডি আধিকারিকরা। কেরল হাইকোর্ট এই দুর্নীতি মামলায় ইডির তদন্ত প্রক্রিয়া বাতিলের আবেদন খারিজ করে দেওয়ার ঠিক পরদিনই কেন্দ্রীয় সংস্থা এই বড় পদক্ষেপ নিল, যা রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গোটা বিতর্কের মূলে রয়েছে সিন্থেটিক রুটাইল এবং শিল্প রাসায়নিক প্রস্তুতকারী সংস্থা CMRL এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মেয়ে টি বীণার মালিকানাধীন আইটি ফার্ম 'এক্সালজিক সলিউশনস'-এর মধ্যকার সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন। অভিযোগ, কোনও রকম পরিষেবা না দিয়েই এক্সালজিক সলিউশনস এই সংস্থার কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়েছে, যা আদতে ঘুষ এবং মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের অংশ। এই মামলায় সরাসরি পিনারাই বিজয়নকে অভিযুক্ত করা না হলেও, তাঁর পরিবারের সম্পৃক্ততা কেরলে বাম শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো, কেরল স্টেট ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনেরও এই সিএমআরএল সংস্থায় ১৩.৪ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
২০২৩ সালের আগস্ট মাসে প্রথম এই দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসে যখন রিপোর্টে দাবি করা হয় যে, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে কোনও রকম সেবা প্রদান না করেই সিএমআরএল-এর কাছ থেকে ১.৭২ কোটি টাকা নেয় এক্সালজিক। এরপরই কেন্দ্রের নির্দেশে তদন্তে নামে সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (SFIO)। তদন্তের পর এসএফআইও একটি ১৬০ পাতার বিশদ চার্জশিট জমা দেয়, যেখানে টি বীণা, সিএমআরএল-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শশীধরণ কার্থা সহ মোট ২৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বীণার সংস্থা সিএমআরএল থেকে মোট ২.৭০ কোটি টাকা পেয়েছিল। অন্যদিকে, আয়কর ইন্টারিম সেটেলমেন্ট বোর্ডও সিএমআরএল কর্মীদের বয়ানের ভিত্তিতে ১.৭২ কোটি টাকা লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত করে। এই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কেন্দ্রীয় কর্পোরেট বিষয়ক মন্ত্রক টি বীণার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন দেয়। বর্তমানে কর্পোরেট জালিয়াতি সংক্রান্ত ২০১৩ সালের কোম্পানি আইনের ৪৪৭ ধারায় বীণার বিরুদ্ধে মামলা চলছে, যাতে দোষী সাব্যস্ত হলে ৬ মাস থেকে ১০ বছর পর্যন্ত জেল এবং আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে।
এই ইডি অভিযানকে সম্পূর্ণ 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত' এবং 'হিংসাত্মক আক্রমণ' বলে তীব্র নিন্দা করেছে সিপিআই(এম)। দলের পলিটব্যুরো সদস্য তথা প্রবীণ নেতা এম এ বেবি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে নিশানা করে বলেন, এটি বিরোধী দলগুলিকে দমানোর জন্য আরএসএস-বিজেপি জোটের একটি পরিকল্পিত নীল নকশা। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মনীশ সিসোদিয়ার প্রসঙ্গ টেনে এনে তিনি বলেন, সারা দেশে বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধান নেতাদের বিরুদ্ধে কীভাবে ভুয়ো মামলা সাজানো হচ্ছে তা স্পষ্ট এবং কেরলেও ইডি-কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিজেপি সরকার। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সিএমআরএল-এর কাছ থেকে কেবল বাম নেতারা নন, বর্তমান বিরোধী দলনেতা ভি ডি সাথীসানের শিবিরের দুই সদস্যও টাকা নিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না।















