আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাঝসমুদ্রে দাউদাউ আগুন। পারস্য উপসাগরে ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে নিয়ে একটি তেলবাহী জাহাজে ভয়াবহ আগুন লাগল। তবে স্বস্তি, জাহাজের সব কর্মীই সুরক্ষিত আছেন। সোমবার কেন্দ্রীয় জাহাজ চলাচল মন্ত্রকের তরফে এই খবর জানানো হয়েছে।
দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ওপেশ কুমার শর্মা সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আজ দুপুর দেড়টা নাগাদ ‘এমটি মারিভেক্স’ নামের জাহাজটিতে আগুন লাগে। তবে প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, ২৪ জন ভারতীয় নাবিকই আপাতত বহাল তবিয়তে আছেন।’’ তিনি আরও জানান, পারস্য উপসাগরে থাকা সমস্ত ভারতীয় জাহাজ ও নাবিকদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান অশান্ত পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক, নৌসেনা ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাহাজ চলাচল মন্ত্রক।
প্রয়োজনে ওই নাবিকদের সব রকম সাহায্য করতে বিদেশে থাকা ভারতীয় দূতাবাসগুলিও তৈরি রয়েছে। মন্ত্রকের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ওই অঞ্চলে থাকা সমস্ত ভারতীয় নাগরিকই এখন সম্পূর্ণ নিরাপদে।
প্রসঙ্গত, সোমবার সকাল থেকেই পরিস্থিতি থমথমে। ইজরায়েলি সেনা জানিয়েছে, সোমবার সকালের পর ইরান থেকে তৃতীয় বারের জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে এসেছে তাদের দিকে। অন্য দিকে, ইজরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের মাহশাহর এলাকার একটি পেট্রোকেমিক্যাল কারখানায় বোমাবর্ষণ করেছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বন্ধু ইয়েমেনের হাউথি বিদ্রোহীরাও ইজরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। একইসঙ্গে ইজরায়েলি জাহাজের যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। হাউথিদের তরফে জানানো হয়েছে, ইজরায়েলের যে কোনও জাহাজকে এখন থেকে সরাসরি আক্রমণ করা হবে।
পশ্চিম এশিয়ার এই যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। সোমবার তেহরানের ভারতীয় দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, ভারতীয় নাগরিকরা যেন এখন ইরান সফরে না যান। পাশাপাশি, যাঁরা এখন ইরানে আছেন, তাঁদের দ্রুত যে কোনও উপায়ে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আসলে, লেবাননের ওপর ইজরায়েলের লাগাতার হামলার বদলা নিতেই রবিবার রাতে ইজরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল ইরান। ইরান বারবারই বলে আসছিল যে আমেরিকার সঙ্গে শান্তি চুক্তি করতে হলে লেবাননে যুদ্ধ থামানো দরকার। কিন্তু রবিবার সকালে ইজরায়েলি সেনা কোনও আগাম সতর্কতা ছাড়াই লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে আচমকা বড় হামলা চালায়।
মিত্র দেশ আমেরিকার অনুরোধও শোনেনি ইজরায়েল। ইজরায়েলের অবশ্য দাবি, ইরান আগে তাদের দিকে হামলা চালিয়েছিল, তাই তারা বাধ্য হয়ে এই পদক্ষেপ করেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে ইরানের হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করেছিলেন। ট্রাম্প তাঁকে পাল্টা হামলা না চালিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর অনুরোধ করেন।
ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে একটা বড় চুক্তি করার খুব কাছাকাছি রয়েছে আমেরিকা। হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কথায় নেতানিয়াহু মুখে রাজি হলেও শেষ পর্যন্ত তা মানেননি। ট্রাম্পের বারণ উড়িয়েই সোমবার ভোরে ইরানে পাল্টা হামলা চালায় ইজরায়েল।















