আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রের আশ্বাসের পর বৃহস্পতিবার রাতে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁর ২৬ দিনব্যাপী অনশন শেষ করেছেন। গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের উপস্থিতিতে সোনম অনশন ভাঙেন। দিনব্যাপী আলোচনার পর এই অসাধ্যসাধন করতে সক্ষম হয় কেন্দ্র।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছাত্র বিক্ষোভ তীব্র হওয়ার পাশাপাশি সোনমের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল ক্রমশ। এই আবহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে চার ঘণ্টার একটি বৈঠক করেন। আলোচনার সময় সরকার সোনমের দাবিগুলির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় এবং একই সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে জিতেন্দ্র সিং সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে, ওই সোনমের উত্থাপিত উদ্বেগগুলি নিরসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আংমোকে সোনমকে অনশন তুলে নিতে রাজি করানোর জন্যও অনুরোধ করেন।

পরে সন্ধ্যায়, নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র মেদান্ত হাসপাতালে সোনমের সঙ্গে দেখা করেন এবং ব্যক্তিগতভাবে তাঁর হাতে সরকারের আশ্বাসপত্র তুলে দেন। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা এও জানিয়েছেন যে, আলোচনা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সরকার শুক্রবার একটি নিরপেক্ষ স্থানে প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধিদলকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানাবে।

সিজেপি নেতৃত্ব বৃহস্পতিবার জেপি নাড্ডার বাসভবন বা তাঁর কার্যালয়ে আলোচনার জন্য কেন্দ্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যন্তর মন্তর বা একটি নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার দাবি জানিয়েছে। কেন্দ্র ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আলোচনাও সোনমের অন্যতম দাবি ছিল।

সূত্রটি আরও জানিয়েছে যে, আলোচনার সময় সোনমকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে আগামী সপ্তাহে ডিপার্টমেন্ট অফ পার্সোনেল অ্যান্ড ট্রেনিং (ডিওপিটি) কাঠামোর অধীনে একটি নতুন বিল সংসদে পেশ করা হবে। প্রস্তাবটি আজ মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকার বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া-সহ অন্যান্য দাবিগুলো বাস্তবায়নেও আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

হাসপাতালে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো ও অন্যদের উপস্থিতিতে সরকারের আশ্বাস পড়ে শোনানোর সময় নাড্ডা বলেন, “দিল্লির যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদকারীদের এবং ২০২৬ সালের ২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে পদযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়ে সরকার ইতিবাচক।”

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন যে, সরকার ইতোমধ্যেই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা সংস্কার নিয়ে সংসদে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছে। সোনমের আরও একটি দাবির কথা উল্লেখ করে নাড্ডা যোগ করেন, “এছাড়াও, সাম্প্রতিক নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মঘাতী পড়ুয়াদের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।”

ওয়াংচুক তাঁর অনশন ভাঙার কথা ঘোষণা করার পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক্স-এ একটি পোস্টে বলেন, “আমি সোনমজিকে অনুরোধ করছি, তিনি যেন চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁর দৈনন্দিন রুটিন মেনে চলেন এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুস্থ হয়ে উঠুন।” প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি সর্বশক্তিমানের কাছে প্রার্থনা করি যেন সোনমজি সুস্থ থাকেন।”

অনশন ভাঙার পর সোনম ওয়াংচুক লাদাখে ফেরার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। সূত্রের খবর, সোনম মন্ত্রীদের এও আশ্বাস দিয়েছেন যে, লাদাখে ফেরার আগে তিনি আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্র ও সমর্থকদের কথা বলবেন। এনডিটিভিকে সূত্রটি জানিয়েছে, তিনি বলেছেন যে তিনি শিক্ষার্থীদের সরকারের আশ্বাসের উপর আস্থা রাখতে আহ্বান জানাবেন এবং শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা যেন আন্দোলনকে দুর্বল করে দিতে পারে এমন ‘সমাজবিরোধী উপাদান’ দ্বারা প্রভাবিত না হয়, তা নিশ্চিত করবেন। সোনম সরকারকে এও আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক আলোচনার পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রাখবেন এবং আলোচনাপ্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধৈর্য রাখার কথা বলেছেন।