আজকাল ওয়েবডেস্ক: সরকারি চাকরি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় লাগাম টানতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র সরকার। পরীক্ষায় অনিয়ম এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট ২০২৪ -এ সংশোধনের প্রস্তাবে শুক্রবার অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে সংসদ ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সরকারি সূত্রের খবর, নতুন সংশোধনীতে প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে বর্তমান আইনের তুলনায় আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী বিলটি আগামী সোমবার সংসদে উত্থাপন করা হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং ছাত্র-ছাত্রীদের বিক্ষোভের আবহে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।


কী থাকছে নতুন আইনে?
সরকারের লক্ষ্য, বিভিন্ন রাজ্যে সক্রিয় সংঘবদ্ধ প্রশ্নফাঁস চক্রের কার্যকলাপ সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা। সেই কারণেই নতুন সংশোধনীতে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুত শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার তদন্ত এবং বিচার তিন মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ করতে হবে। এই উদ্দেশ্যে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনেরও আইনি ভিত্তি তৈরি করা হবে, যাতে বছরের পর বছর মামলা ঝুলে না থাকে এবং দ্রুত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।


সর্বোচ্চ ১০ বছর জেল, ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা
প্রস্তাবিত আইনে সংঘবদ্ধ প্রশ্নফাঁস চক্র বা এই ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমান আইনের তুলনায় এই শাস্তি অনেক বেশি কঠোর বলে জানিয়েছে সরকার।


কেন্দ্রের মতে, শুধু পরীক্ষার্থী নয়, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে যুক্ত সংগঠিত চক্র, দালাল, প্রযুক্তিগত সহায়তাকারী এবং অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যেই এই সংশোধনী আনা হচ্ছে।


পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফেরানোর চেষ্টা
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে একাধিক সরকারি নিয়োগ পরীক্ষা, প্রবেশিকা এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে। এর জেরে বহু পরীক্ষার্থী আন্দোলনে নেমেছেন এবং পরীক্ষা বাতিল বা পুনরায় আয়োজনের ঘটনাও ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


সরকারের দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে প্রশ্নফাঁস চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার এবং কঠোর শাস্তির ফলে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এখন সংসদে সংশোধনী বিলটি পাশ হলে নতুন বিধান কার্যকর করার পথে আর কোনও বড় বাধা থাকবে না। ফলে দেশের লক্ষ লক্ষ চাকরিপ্রার্থী ও পরীক্ষার্থীর কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সাহায্য করতে পারে।


অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের মধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে সিজেপি-র প্রতিনিধিদের বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকে সিজেপি-র পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন অশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাস।


বৈঠক শেষে সিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, “ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে কোনও আপস হবে না।” তাদের দাবি, নিট-সহ বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।


ফলে পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে কেন্দ্র আইন সংশোধনের পথে এগোলেও, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারী পক্ষের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। তাই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের ওপরেই। 

&t=28s