আজকাল ওয়েবডেস্ক: সংসারের অভাব ঘোচাতে বিহারের গ্রাম ছেড়ে সুদূর দিল্লিতে পাড়ি দিয়েছিলেন ৩০ বছরের বীরজু কুমার। আশা ছিল, হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়বেন। কিন্তু এক নিমেষে সব শেষ। রাস্তার মাঝে ম্যানহোলে পড়ে মৃত্যু হয় তাঁর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দিল্লির রোহিণী এলাকায় রাস্তার ধারের এক খোলা ম্যানহোলে পড়ে প্রাণ হারান ওই পরিযায়ী শ্রমিক।

পরিবার সূত্রে খবর, ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছিলেন বীরজু। মা গীতা দেবী পরের বাড়িতে জনমজুরি করে তাঁকে বড় করেন। বড় হয়ে সংসারের হাল ধরেছিলেন বীরজুই। গত আট মাস ধরে দিল্লিতে সেন্টারিংয়ের কাজ করছিলেন তিনি। বুধবার থেকে বিহারের সমাস্তিপুর জেলার সাদীপুর বাথনাহা গ্রামে বীরজুর বাড়িতে উনুন জ্বলেনি। স্ত্রী সুচিতা দেবী এবং তিন সন্তান- আয়ুষ, আর্যন ও রিয়ার চোখের জল বাঁধ মানছে না।

পরিবার সূত্রে আরও খবর পাওয়া যায়, আর দিন পাঁচেক বাদেই গ্রামে ফেরার কথা ছিল বীরজুর। হাতে কিছু টাকা আসায় বন্ধুদের সঙ্গে বাজারে গিয়েছিলেন সন্তানদের জন্য নতুন জামাকাপড় কিনতে। ফেরার পথে অন্ধকার রাস্তায় খোলা ম্যানহোলটি তিনি দেখতে পাননি। হুড়মুড়িয়ে ম্যানহোলের ভিতর পড়ে যান বীরজু। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর দমকল কর্মীরা যখন তাঁকে উদ্ধার করেন, তখন সব শেষ।

এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, বীরজুদের মতো শ্রমিকরাই শহর তৈরি করেন, অথচ তাঁদের নিরাপত্তার কোনও ব্যবস্থা নেই। প্রশাসনের গাফিলতিতেই এই মৃত্যু। ম্যানহোলটি ঢাকা থাকলে আজ বীরজুকে মরতে হতো না। অবিলম্বে অসহায় পরিবারটির জন্য সরকারি ক্ষতিপূরণ এবং সন্তানদের পড়াশোনার খরচ নিশ্চিত করতে হবে।

ময়নাতদন্তের পর বীরজুর দেহ গ্রামে আনা হচ্ছে। তাঁর বোন পুনম দেবীর হাহাকার, "দাদাই আমাদের সব ছিল। এখন বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যৎ অন্ধকার। সরকার পাশে না দাঁড়ালে আমরা কোথায় যাব?"