আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে কমছে সন্তান জন্মের হার। শনিবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন স্পেসএক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক। 

তাঁর দাবি, এ দেশে প্রজনন হার এখন ‘প্রতিস্থাপনের মাত্রা’ বা ‘রিপ্লেসমেন্ট রেট’-এর নিচে নেমে গিয়েছে। ধনকুবের মাস্ক লিখেছেন, ‘‘ভারতে জন্মহার অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে এই হার বহু বছর আগেই বেশ নিচে নেমে গিয়েছিল।’’

‘এএফ পোস্ট’ নামে একটি সংবাদমাধ্যমের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মাস্ক এই মন্তব্য করেন। ওই সংবাদমাধ্যমের দাবি, ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম 'সামগ্রিক প্রজনন হার' (টিএফআর) এতটা কমল।

মাত্র ১০ বছরে এই হার ২.৩ থেকে কমে ১.৯ হয়েছে। এমনকী রাজধানী দিল্লির টিএফআর এখন মাত্র ১.২, যা ফিনল্যান্ডের মতো দেশের চেয়েও কম। গত ৪ জুন ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই এই তথ্য সামনে এসেছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর ২০২৫ সালের রিপোর্টেও একই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, ভারতের প্রজনন হার এখন ১.৯। কিন্তু জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখতে এই হার অন্তত ২.১ হওয়া প্রয়োজন। অর্থাৎ, জনসংখ্যা ধরে রাখার জন্য গড়ে যে ক’টি শিশুর জন্ম হওয়া দরকার, ভারতীয় মহিলারা এখন তার চেয়ে কম সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন।

বর্তমানে ভারতের জনসংখ্যা ১৪৬ কোটির বেশি। ২০২৩ সালে চীনকে পিছনে ফেলে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হয়ে উঠেছে।

তবে জনসংখ্যা কমলেও দেশের অন্দরে বেশ কিছু সমস্যা রয়েই গিয়েছে। এমনটাই জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় উন্নতি হলেও ভারতে এখনও ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ও লিঙ্গভেদ স্পষ্ট। সেই সঙ্গে কম বয়সে বিয়ে এবং অল্প বয়সে মা হওয়ার কারণে ২৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের মধ্যে প্রসবকালীন মৃত্যুর হার এখনও যথেষ্ট উদ্বেগজনক।