আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিহারের নালন্দার এক শীতলা মন্দিরে ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার প্রবল ভক্ত সমাগম হয়। সেই ভিড়ে পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারান আট জন মহিলা। আহত হয়েছেন বহু পূন্যার্থী। 

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দির চত্বরে অস্বাভাবিকরকমের ভিড় হয়েছিল। শীতলা পুজোকে কেন্দ্র করে ভক্তরা ভিড় করেছিলেন। সেই ভিড়ের চাপেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে যায়। যাঁরা এই ভিড়ের মধ্যে পড়েছিলেন তাঁদের অনেকেরই অবস্থাই শোচনীয়।  অনেকের শ্বাসকষ্ট হয়, অজ্ঞাণ হয়ে পড়েন। তবে আট জন মহিলা ভক্তের পুজো দিতে গিয়ে আর ঘরে ফিরা হল না। এই ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই উদ্ধারকার্য শুরু হয়, পাঠানো হয় ত্রাণ। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

বিহারের নালন্দার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক। এককালে ভারতের সবচেয়ে নামী বিশ্ববিদ্যালয় ছিল নালন্দায়। ছিল হাজার ছাত্র ও শিক্ষক। প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তৈরি হয়েছে অজশ্র আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী এবং আরও অনেককে। আসতেন নেপাল, চীন, কোরিয়া, তিব্বত-সহ দক্ষিণ এশিয়ারও অনেক ছাত্র। শেষে মহম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজির হাতে ধ্বংস হয় এই বিশ্ববিদ্যালয়। শিক্ষার দিক থেকেই শুধু নয়, ধর্মাচারণের দিক দিয়েও নালন্দার গুরুত্ব অপরিসীম। মূলত গৌতম বুদ্ধের দর্শণকে পাথেয় করে নালন্দায় গড়ে উঠেছে ধরাচারণ। তবে হিন্দু ধর্মাচারণও এখানে হয়ে থাকে। বিশেষত কোনও শুভ তিথীতে হিন্দুদের নানান ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে থাকে। মঙ্গলবার সেরকমই এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। 

যেকোনও শুভ অনুষ্ঠানে ভিড় হয় এখানে। এদিনও হয়েছে। কিন্তু ভিড় নিয়ন্ত্রণ ঠিক করে করা হয়নি। প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের গাফিলতিকে ঘিরেও। তবে এখনও প্রশাসনের তরফ থেকে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গিয়েছে। তবে গুরুতরভাবে আহত অনেকে। জখমরা স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তী। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

উপস্থিত একজন ভক্ত তথা প্রত্যক্ষদর্শী মমতা দেবীর কথায়, "প্রায় প্রতি মঙ্গলবারই এখানে মোটামুটি ভিড় হয়। মা শীতলার কৃপা এলাকা জুড়ে রয়েছে। মানুষ তাই প্রায় প্রতি মঙ্গলবার করেই আসেন শীতলা মায়ের দর্শনে। বহু ভক্ত মাকে পুজো দেন। ঘরের মঙ্গল কামনায় মহিলারা আসেন। ফলে মহিলাদের সংখ্যাই এখানে বেশি হয়। আমরাও তো পাটনা থেকে এসেছি মাকে পুজো দিতে। কিন্তু আজ যেন একটু বেশিই ভিড়। তবুও সব ঠিক ছিল। হঠাৎ দেখি হুড়োহুড়ি শুরু হল। কছুক্ষণের মধ্যেই দেখি পায়ের চাপে মানুষ মারা যেতে শুরু করেছেন। অবশ্যই এখানে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা ছিল না বলেই এই পরিস্থিতি হল। যখন সকলেই জানেন প্রায় প্রতি মঙ্গলবারই এইরকম ভিড় হয় তাহলে প্রশাসনের উচিৎ ছিল আরও গঠনমূলকভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা। শুধু দূরে একটা অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে। ওইটুকুই।"