আজকাল ওয়েবডেস্ক: সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নপত্র ফাঁস থেকে শুরু করে ফলাফলের ত্রুটি, এহেন নানা বিতর্কের জেরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি তুলল 'ককরোচ জনতা পার্টি'। বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে দলের সদস্যরা ঘোষণা করেন যে, আগামী ৬ জুন তারা একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন।
'কাকরোজ জনতা পার্টি' নিট, এসএসসি, এবং সিবিএসই-এর মতো পরীক্ষাগুলোতে ব্যাপক অনিয়মের কথা উল্লেখ করে জানায় যে, এর ফলে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দলটি সরকার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের কাছে এই বিষয়ে জবাবদির দাবি করেছে।
সাংবাদিক বৈঠকে 'কাকরোজ জনতা পার্টি'-র সদস্য ও সাংবাদিক সৌরভ দাস বলেন, “আমাদের মূল দাবি হল, এই ব্যবস্থার মধ্যেও মন্ত্রীর জবাবদিহি নিশ্চিত করা। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে মোট ৮ লক্ষ মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছেন। অথচ তাদের পক্ষ থেকে এর কোনও উত্তরই দেওয়া হয়নি। দু'জন কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে, কিন্তু এটি কোনও শাস্তি হতে পারে না, কারণ তাঁদের তো সাময়িক বরখাস্তও করা হয়নি। আমরা এই ব্যবস্থার কাছে জবাবদি চাইছি। আপনারা তো দেখতেই পাচ্ছেন, সারা দেশ জুড়ে আমরা কী বিপুল সমর্থন পাচ্ছি।”
'ককরোজ জনতা পার্টি'-র তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ জুন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে-কে সঙ্গে নিয়ে সদস্যরা দিল্লি বিমানবন্দর থেকে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশন পর্যন্ত একটি মিছিল করবেন। এই মিছিলের উদ্দেশ্য হল যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের অনুমতি চাওয়া। দলটি দলীয় মতপার্থক্য নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষকে এই বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এই কর্মসূচি আগেই লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক সমর্থন করেছেন।
এই সাংবাদিক বৈঠকে নবাগত দলেক চরফে তাদের তিনজন মুখপাত্রের নামও ঘোষণা করা হয়। তাঁরা হলেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিক সৌরভ দাস, লেখক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বিজেতা দাহিয়া এবং ম্যাককিনজি-র প্রাক্তন পরামর্শদাতা ও আপ-এর মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কিছু বেকার যুবককে 'আরশোলা' এবং 'পরজীবী'-র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন (যা অনলাইনে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল)। ঠিক তার পরেই একটি ব্যঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারভিযান হিসেবে 'ককরোজ জনতা পার্টি'-র যাত্রা শুরু হয়। এরপর থেকে এটি একটি 'প্রতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা বিরোধী' এবং তরুণদের পরিচালিত আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা বর্তমানে ২ কোটি ২০ লক্ষেরও বেশি, যদিও এটি কোনও নথিভুক্ত রাজনৈতিক দল নয়।
আগামী ৬ জুনের এই কর্মসূচিটিই হবে দলটির আয়োজিত প্রথম কোনও সুসংগঠিত বিক্ষোভ। আশুতোষ রাঙ্কা বলেছেন, "আমেরিকা থেকে অভিজিৎ আসবেন এবং আমরা অনুমতির জন্য আবেদন করব। আমরা এখানে দিল্লি পুলিশের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, যাতে তারা আমাদের এ বিষয়ে একটি টুইট করার অনুমতি দেয়। এই বিষয়ে তাদের উদারতার পরিচয় দেওয়া উচিত।"
এই সপ্তাহে এক ভিডিও বার্তায় বোস্টন-নিবাসী ককরোচ জনতা পার্টির-এর প্রতিষ্ঠাতা দিপকে ঘোষণা করেন যে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে তিনি দিল্লি আসবেন। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "সবাই বিমানবন্দরের সামনে আমার সঙ্গে দেখা করবেন। এরপর আমরা সবাই মিলে পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে যাব এবং একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ আয়োজনের অনুমতি চাইব।” তাঁর আশঙ্কা, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
এই বিক্ষোভের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কোনও আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র রাঙ্কা স্পষ্ট করেন যে, তাঁরা একটি “শান্তিপূর্ণ” বিক্ষোভ সমাবেশেরই আহ্বান জানিয়েছেন। বলেন, "সবকিছুই আইন ও সংবিধান মেনে সম্পন্ন হবে। আমরা সকলের প্রতি আইন মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি।”
দাহিয়া আরও যোগ করেন, দিপকে দিল্লি পৌঁছানোর পর তাঁকে আটক করা হলেও এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। বলেন, “এই দলটি কেবল অভিজিতের একার দল নয়। এটি হলো তরুণদের দল। সোনম ওয়াংচুকের মতো পরিবেশকর্মীরা যদি গ্রেপ্তার হতে পারেন, তবে অভিজিৎও গ্রেপ্তার হতে পারেন। কিন্তু কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতেই হবে।”















