আজকাল ওয়েবডেস্ক: অনলাইন ডেলিভারি অ্যাপ ব্লিনকিটের (Blinkit) এক ডেলিভারি বয়ের বিরুদ্ধে মারাত্মক হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন এক তরুণী। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বিশদভাবে লিঙ্কডইনে শেয়ার করে তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে একটি সেক্সুয়াল ওয়েলনেস বা যৌন সুস্থতা সংক্রান্ত পণ্য অর্ডার করার পর তাঁকে কুৎসিত ইঙ্গিতের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই ঘটনাটি সমাজমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে এবং সেই সাথে ভারতে মহিলাদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং যৌন সুস্থতার সামগ্রী কেনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক ছুঁৎমার্গের বিষয়টি আবার সামনে এনে দিয়েছে।

অভিযোগকারী তরুণী জানান, দুপুর আনুমানিক দেড়টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। তিনি বছরের পর বছর ধরে এই অ্যাপটি ব্যবহার করছেন এবং এর আগে কখনো কোনও  খারাপ অভিজ্ঞতা হয়নি। সেদিন একটি যৌন সুস্থতার সামগ্রী অর্ডার করার পর ডেলিভারি পার্টনারের কাছ থেকে তাঁর ফোনে একটি কল আসে। ডেলিভারি বয় জানতে চান, ‘ম্যাডাম, ব্লিনকিটের অর্ডার আছে, আপনি কোথায় আছেন?’ তরুণীটি স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দেন, ‘আমি বাড়িতেই আছি ভাই, আপনি এসে বেল বাজিয়ে দিন।’

কিন্তু দরজা খোলার পরেই তরুণীটি অস্বস্তি বোধ করতে শুরু করেন। তিনি খেয়াল করেন, ডেলিভারি বয় তাঁর দিকে অত্যন্ত আপত্তিকরভাবে তাকাচ্ছেন। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে তিনি দ্রুত প্যাকেটটি নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। ঘরের ভেতরে এসে তিনি দেখেন যে, কাগজের প্যাকেটটি ঠিকমতো সিল করা ছিল না এবং ভেতরের জিনিসটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। ঠিক তখনই তাঁর ফোনে আবার ওই ডেলিভারি বয়ের কল আসে।

ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে প্রশ্ন করা হয়, ‘ম্যাডাম, এটা কী জিনিস?’ তরুণীটি বিরক্ত হয়ে বলেন, ‘যা-ই হোক না কেন, আপনার তাতে কী?’ এর পরেই সেই ডেলিভারি বয় অত্যন্ত নোংরা ও আপত্তিকর মন্তব্য করে বসে। সে বলে, ‘এইসব কেন ব্যবহার করছেন ম্যাডাম? আমাকে ব্যবহার করুন, খুব সুখ দেব।’ এই কথা শুনে তরুণীটি আক্ষরিক অর্থেই স্তব্ধ হয়ে যান। তাঁর কথায়, সবচেয়ে ভয়ের বিষয় ছিল এটাই যে, যে মানুষটি ফোনে এমন নোংরা প্রস্তাব দিচ্ছে, সে ঠিক জানে তরুণীটি কোথায় এবং কোন বাড়িতে একা থাকেন।

এরপর দু'জনের বিবাদের জেরে তরুণীটি সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ জানানোর হুমকি দিলে ডেলিভারি বয়টি ক্ষমা চায়। কিন্তু তরুণীটির স্পষ্ট কথা, একটা সাধারণ ক্ষমাপ্রার্থনায় মনের ভেতরের ভয় বা আতঙ্ক মুছে যায় না। ঘটনার পরেই তিনি ব্লিনকিটের কাস্টমার সাপোর্ট টিমে অভিযোগ জানান। কোম্পানি থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও, তরুণীটি জনসমক্ষে বেশ কিছু জরুরি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চেয়েছেন, এই ধরনের সংবেদনশীল পার্সেল কেন ভালোভাবে সিল না করে পাঠানো হল? ডেলিভারি পার্টনারদের হাত থেকে নারীদের সুরক্ষার জন্য আদতে কী নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে? একই সাথে তাঁর ক্ষোভ, আইনিভাবে বৈধ কোনও  যৌন সুস্থতার সামগ্রী কেনার জন্য মহিলাদের কেন এখনো সমাজে লজ্জিত হতে হবে? আর পুরুষরাই বা কোন সাহসে এই নিয়ে হেনস্থা করার অধিকার পেয়ে যায়?

লিঙ্কডইনে নিজের বক্তব্যের সপক্ষে দুটি ছবিও শেয়ার করেছেন তিনি। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে ব্লিনকিটের প্যাকেটটি ছেঁড়া বা খোলা অবস্থায় রয়েছে, যার ভেতর থেকে পণ্যটি দেখা যাচ্ছে। অন্যটি কাস্টমার কেয়ারের সাথে চ্যাটের স্ক্রিনশট, যেখানে তিনি গোটা ঘটনার কথা কোম্পানিকে জানাচ্ছেন। তরুণীটি স্বীকার করেছেন যে, সমাজের ট্যাবু বা লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে ইতস্তত করছিলেন। কিন্তু পরে তিনি বুঝতে পারেন, এই ধরনের বিষয়ে চুপ থাকা মানে অপরাধীকে আরও প্রশ্রয় দেওয়া। তাই অন্য নারীদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই তিনি শেষ পর্যন্ত সমাজমাধ্যমে এই হেনস্থার বিরুদ্ধে সরব হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।