আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী ২১ জুন, রবিবার নিট ইউজি-র পুনঃপরীক্ষা। তার আগে পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং অনিয়ম রুখতে বড় পদক্ষেপ করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম অ্যাপ 'টেলিগ্রাম' সাময়িক ভাবে নিষিদ্ধ করা হয় কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে। সেই নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে 'টেলিগ্রাম' কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সেই মামলার শুনানি ছিল দিল্লি হাইকোর্টে। এ বার কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখল আদালত। আদালত জানিয়েছে, পরীক্ষার অসদুপায় ও জালিয়াতি রুখতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপটি যথেষ্ট যুক্তিযুক্ত।

 

শুক্রবার তথ্যপ্রযুক্তি আইন-এর ৬৯এ ধারার অধীনে জারি করা সরকারি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে টেলিগ্রামের পক্ষ থেকে একটি আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। সেই আবেদন খারিজ করে বিচারপতি তেজস কারিয়া রায় ঘোষণা করেন। বলেন, "সরকারের এই পদক্ষেপটি যথেষ্ট নমনীয়, সময়োপযোগী এবং জরুরি। তাই এই নির্দেশকে কোনওভাবেই অযৌক্তিক বলা চলে না।"

 

গত ৩ মে অনুষ্ঠিত মূল নিট ইউজি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগের কারণে বাতিল করা হয়েছিল। যার তদন্ত করছে সিবিআই। আগামী দিনে যাতে পুনরায় কোনও জালিয়াতি চক্র সক্রিয় হতে না পারে, সেই কারণে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির সুপারিশে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। এছাড়া, ইতিমধ্যেই পোস্ট করা মেসেজ এডিট বা সংশোধন করার অপশনটি আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নিষ্ক্রিয় রাখার জন্য টেলিগ্রামকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

 

এ দিন টেলিগ্রামের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী ধ্রুব মেহতা যুক্তি দেন যে, অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াকে ছাড় দিয়ে কেবল টেলিগ্রামকে টার্গেট করা সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের (সমতার অধিকার) পরিপন্থী। তিনি বলেন, গত মে মাস থেকে তারা সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং সরকারের দেওয়া নির্দিষ্ট লিঙ্কের ভিত্তিতে ৯০০-রও বেশি বেআইনি লিঙ্ক ১ ঘণ্টার মধ্যে সরিয়ে দিয়েছে। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, "সরকারি আদেশে বলা হয়েছে দেশের 'সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা' রক্ষার স্বার্থে এই নিষেধাজ্ঞা। একটি পরীক্ষার সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্বের কী সম্পর্ক? এখানে সরকারি স্তরে চিন্তাভাবনার অভাব রয়েছে।"

 

অন্য দিকে, কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি সরকারের এই পদক্ষেপকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেন। সলিসিটর জেনারেল জানান, পুনরায় প্রশ্ন ফাঁস রুখতে এবং পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই এই সরকারের এই পদক্ষেপ। এ ছাড়া, টেলিগ্রামের নিজস্ব কারণে অ্যাকাউন্ট মুছে দিলে সমস্ত ডেটা ও মেসেজও মুছে যায়, যা তদন্তের ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে।

 

আদালতের শুনানিতে টেলিগ্রামের গোপনীয়তার পরিকাঠামো নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি। তিনি বলেন, "টেলিগ্রামের নিজস্ব পরিকাঠামোর কারণে এটি একটি 'ফ্রাঙ্কেনস্টাইন' -এ পরিণত হয়েছে। ভারতের মতো একটি দেশ যদি পরীক্ষার সুরক্ষায় এমন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিতে পারে, তবে আমরা কোথায় যাব? একটি বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম নানারকম যুক্তি দেখাচ্ছে। যা সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর।"

 

উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানির পর গতকাল ১৮ জুন আদালত রায় সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল। শেষমেশ, আজ, ১৯ জুন, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকাকেই বৈধ বলে সিলমোহর দিল দিল্লি হাইকোর্ট।