আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগরে প্রতিবেশী তিন তরুণীর উদ্দেশ্যে জাতিগত কটূক্তির অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। বুধবার পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত রুবি জৈন ও তাঁর স্বামী হর্ষ জৈনকে তদন্তের ভিত্তিতে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের দাবি, গত ২০ ফেব্রুয়ারি একটি ভাড়াবাড়িতে মেরামতির কাজকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বচসা বাঁধে। সেই সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অভিযোগ, রুবি জৈন প্রতিবেশী তিন মহিলার উদ্দেশ্যে জাতিগতভাবে অপমানজনক ও অশালীন মন্তব্য করেন। ওই তিনজনই অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা এবং কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকছিলেন।

ঘটনার পর মালভিয়া নগর থানায় এফআইআর দায়ের হয়। প্রথমে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়—যার মধ্যে ছিল ভয় দেখানো, মহিলার শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে অপমান এবং গোষ্ঠীগত বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ। পরে তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মামলায় Scheduled Castes and Scheduled Tribes (Prevention of Atrocities) Act–এর ধারাও যুক্ত করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখার পরই গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এসসি-এসটি আইন যুক্ত হওয়ায় তদন্তের দায়িত্ব এসিপি পদমর্যাদার এক আধিকারিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি শীর্ষ কর্তাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।”

ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি লিখেছেন, “উত্তর-পূর্বের আমাদের বোনদের সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে, তার তীব্র নিন্দা করছি। আমি তাঁদের পাশে দৃঢ়ভাবে আছি।” তিনি আরও জানান, দিল্লি সবার শহর—এখানে প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা, সম্মান ও নিরাপত্তা সর্বাগ্রে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলেও আশ্বাস দেন।

উত্তর-পূর্ব ভারতের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দিল্লি সহ দেশের বিভিন্ন মহানগরে জাতিগত মন্তব্য ও বৈষম্যের অভিযোগ নতুন নয়। এই ঘটনা ফের সেই প্রশ্নই সামনে এনে দিল—বহুজাতিক ও বহুভাষিক সমাজে পারস্পরিক সম্মান ও সংবেদনশীলতা কতটা জরুরি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযুক্ত দম্পতিকে আদালতে পেশ করা হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানির তারিখ শিগগিরই নির্ধারিত হবে।