আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের ডিজিটাল দুনিয়ায় এবার এক বিশাল বিনিয়োগের ঢল নামতে চলেছে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ করতে চলেছে বিশ্বের অন্যতম সেরা ডেটা সেন্টার সংস্থা ‘এয়ারট্রাঙ্ক’। সংস্থার এই বিরাট পদক্ষেপে বিশ্ববাজারে ভারতের গুরুত্ব এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

শুক্রবার এয়ারট্রাঙ্ক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা তথা সিইও রবিন খুদার সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই বৈঠকের পরই প্রধানমন্ত্রীর তরফে এই মেগা বিনিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়। ভারতে সব মিলিয়ে ৫ গিগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে এই বহুজাতিক সংস্থার।

বৈঠক শেষে সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, "ভারতের ডিজিটাল পরিকাঠামো এখন দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ভারতে প্রায় ৩ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের কথা জানিয়েছে এয়ারট্রাঙ্ক। দেশের ডিজিটাল দুনিয়ায় এটি অন্যতম বড় বিনিয়োগ হতে চলেছে।" মোদি আরও জানান, এই লগ্নি ভারতকে 'ক্লাউড কম্পিউটিং' এবং এআই-এর বিশ্বমঞ্চে এক লাফে অনেকটাই এগিয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, এর ফলে দেশের বাজারে যেমন কাজের সুযোগ বাড়বে, তেমনই তৈরি হবে নতুন নতুন প্রযুক্তির পথ।

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, "এটা স্পষ্ট যে বিশ্বের ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এবার ভারতেই তৈরি হচ্ছে।" মূলত এশিয়া-প্যাসিফিক এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে বড় বড় প্রযুক্তি ও ইন্টারনেট সংস্থাকে ক্লাউড এবং ডেটা পরিকাঠামোর পরিষেবা দেয় এই এয়ারট্রাঙ্ক।

সংস্থার সিইও রবিন খুদার মতে, ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির দূরদর্শী চিন্তাভাবনার জেরেই ভারত আজ বিশ্ববাজারে প্রযুক্তি বিনিয়োগের সেরা জায়গা হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, "বিশ্বের এআই জগতের অন্যতম প্রধান শক্তি হয়ে ওঠার সব রকম মেধা ও ক্ষমতা ভারতের রয়েছে। সেই স্বপ্ন পূরণে ভারতের পাশে থাকতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।"

বিশ্বের নামী বিনিয়োগকারী সংস্থা ‘ব্ল্যাকস্টোন’ এবং ‘কানাডা পেনশন প্ল্যান’-এর আর্থিক মদত রয়েছে এয়ারট্রাঙ্কের পিছনে। ফলে তাদের এই বিপুল বিনিয়োগ ভারতের প্রযুক্তি ক্ষেত্রকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ধাপে ধাপে এই ডেটা সেন্টারগুলি গড়ে তোলা হবে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের এপ্রিল মাসেই ‘লুমিনা ক্লাউডইনফ্রা’ নামের একটি সংস্থাকে কিনে ভারতের বাজারে পা রেখেছিল এয়ারট্রাঙ্ক। ইতিমধ্যেই মুম্বই, চেন্নাই এবং হায়দরাবাদে তাদের প্রায় ৬০০ মেগাওয়াটের ডেটা সেন্টার তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

২০১৫ সালে তৈরি হওয়া এই সংস্থা ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ায় তাদের প্রথম বড় ডেটা সেন্টার তৈরি করে। তারপর অত্যন্ত কম সময়ে ব্যবসা বাড়িয়ে এখন গোটা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল জুড়ে নিজেদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিয়েছে তারা। এবার তাদের পাখির চোখ ভারতের বাজার।