আজকাল ওয়েবডেস্ক: পাঞ্জাবের লুধিয়ানার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান CT University-এ রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের খাবারের ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক ঘিরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। অভিযোগের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিতিন ট্যান্ডনকে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

কী অভিযোগ?

বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল কাশ্মীরি ছাত্র অভিযোগ করেন, সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) তারা রমজান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেসে সেহরি ও ইফতারের বিশেষ ব্যবস্থার দাবি জানান। সেই অনুরোধ ঘিরেই উপাচার্যের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি শুরু হয়। ছাত্রদের দাবি, তর্কের এক পর্যায়ে উপাচার্য তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং ভর্তি বাতিলের হুমকিও দেন।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভে নামেন। তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন এবং কিছু সময়ের জন্য মেসও বন্ধ করে দেন বলে জানা যায়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা শুরু হয়।

পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নি সংবাদমাধ্যমকে জানান, “উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল এবং তিনি পদত্যাগ করেছেন। বাকি বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ। খাবার নিয়ে ছাত্রদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়েছিল, এরপর ছাত্ররা মেসে তালা লাগিয়ে দেয়। উপাচার্যের পদত্যাগের পর ছাত্ররা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করেছে।”

অন্যদিকে লুধিয়ানার ডেপুটি কমিশনার হিমাংশু জৈন এক বিবৃতিতে জানান, জেলা প্রশাসন, লুধিয়ানা রুরাল পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মেটানো হয়েছে। জাগরাঁও মহকুমার সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ অনুসন্ধান করবে। প্রশাসনের আশ্বাসের পর ছাত্ররা বিক্ষোভ তুলে নেন।

ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলেও সাড়া ফেলে। জম্মু ও কাশ্মীরের পিডিপি-র নেত্রী ইলতিজা মেহবুবা মুফতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে প্রশ্ন তোলেন—রমজান উপলক্ষে ইফতার ও সেহরির খাবারের আবেদন করায় কাশ্মীরি মুসলিম ছাত্রদের ‘হয়রানি’ ও ‘হুমকি’ দেওয়া কি মেনে নেওয়া যায়? তিনি কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানান এবং বলেন, “এ ধরনের আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” পরে উপাচার্যের পদত্যাগের খবর সামনে আসার পর তিনি মুখ্যমন্ত্রী ও পাঞ্জাব পুলিশকে দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানান।

ঘটনাটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নয়—বরং তা সংখ্যালঘু ছাত্রদের অধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে। রমজান মাসে সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা চাওয়া কি অতিরিক্ত দাবি, নাকি তা ধর্মীয় অধিকারের স্বাভাবিক অংশ—এই বিতর্ক এখন আরও বিস্তৃত পরিসরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

তদন্ত কমিটির রিপোর্ট সামনে এলে পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। তবে আপাতত উপাচার্যের পদত্যাগে পরিস্থিতি শান্ত হলেও, এই ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সংবেদনশীলতার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিল।