আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রভু শ্রীকৃষ্ণ মুসলিম ছিলেন এবং তিনি দিনে পাঁচবার নমাজ পড়তেন। এই দাবি, মৌলানা জারজিস আনসারির। সম্প্রতি তাঁর এই বিতর্কিত ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শোরগোল পড়েছে। মৌলানার দাবির প্রতিবাদে মুখপর বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন। মৌলানা জারজিস আনসারির গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে।

মৌলানা ঝাড়খণ্ডে গত ২৩ জুন আয়োজিত একটি ধর্মীয় সভায় শ্রীকৃষ্ণ মুসলিম ছিলেন বলে দাবি কেরছিলেন। বক্তৃতার সময় আনসারি ভগবদ্গীতার একটি শ্লোক উদ্ধৃত করেন—"যোগী যুঞ্জীত সততমাত্মানং রহসি স্থিতঃ। একাকী যতচিত্তাত্মা নিরাশীরপরিগ্রহঃ॥" এবং দাবি করেন যে, এই শ্লোকে ভক্তদের "সর্বাঙ্গ" দিয়ে উপাসনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি যুক্তি দেন যে, শ্রীকৃষ্ণ নিজেও দিনে পাঁচবার প্রার্থনা বা নমাজ পড়তেন।

শ্লোকটি আবৃত্তি করার আগে আনসারি বলেন, "আমাদের ভাইয়েরা যদি কিছু মনে না করেন, তবে বলি- কৃষ্ণজিও দিনে পাঁচবার প্রার্থনা করতেন। যদি বিশ্বাস না হয়, তবে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ের দশম শ্লোকটি দেখুন।" তিনি আরও দাবি করেন যে, হিন্দুরা যদি তাদের ধর্মগ্রন্থগুলো মনোযোগ দিয়ে পাঠ করেন, তবে তারা "ইসলামকে ভালবাসতে শুরু করবেন।" তাঁর মতে, ইসলাম একটি সর্বজনীন ধর্ম, যার প্রচার কেবল পয়গম্বর মহম্মদই করেননি, বরং রামচন্দ্র ও শ্রীকৃষ্ণও করেছিলেন। 

মৌলানা জারজিস আনসারি বলেছেন, "হিন্দু ভাইয়েরা যদি তাদের ধর্মগ্রন্থগুলো পড়েন... তবে বিশ্বাস করুন, তারা ইসলামকে ভালবাসতে শুরু করবেন। কারণ ইসলাম হল বিশ্বের ধর্ম। এটি কেবল মুসলমানদের ধর্ম নয়। রামচন্দ্রজিও এই ধর্মই তুলে ধরেছিলেন। কৃষ্ণজিও এটিই তুলে ধরেছিলেন।"

তবে, আনসারির দেওয়া শ্লোকটির ব্যাখ্যা এর প্রচলিত বা স্বীকৃত অর্থের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ভগবদ্গীতার ষষ্ঠ অধ্যায়ের দশম শ্লোকের অর্থ হল- "যোগী সর্বদা নির্জন স্থানে একা থেকে ধ্যানমগ্ন থাকবেন, তাঁর মন ও আত্মা থাকবে নিয়ন্ত্রণে এবং তিনি থাকবেন কামনা-বাসনা ও আসক্তি বা মালিকানাবোধ থেকে মুক্ত।" ওই শ্লোকে নমাজ, ইসলাম কিংবা দিনে পাঁচবার প্রার্থনা করার কোনো উল্লেখ নেই।

আনসারি অতীতেও বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়েছেন। ২০২২ সালে তাঁর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে, কোনও মুসলিম মহিলার উচিত নয় কোনও পরিস্থিতিতেই (এমনকি প্রসববেদনার সময়ও) স্বামীর যৌন আহ্বানে সাড়া দিতে অস্বীকার করা। ভিডিও-টিতে আনসারি বলেন, "হে মুসলিম মহিলা! আপনি যদি আপনার স্বামীকে আপনার শরীর ভোগের (যৌন মিলনের) সুযোগ না দেন, তবে আপনি গুরুতর পাপ করছেন।"

মুসলিম মহিলাদের প্রতি তাঁর নিদান, "এমনকি সন্তান প্রসবের ঠিক আগের মুহূর্তেও যদি আপনার স্বামী আপনার শরীর ভোগ করতে চান... তবে আপনাকে আপনার স্বামীর সেই ইচ্ছা পূরণ করতে হবে।"

মৌলানা জারজিস আনসারি অতীতে একটি ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে, বারাণসীর একটি ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত আনসারিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়। মামলাটি ছিল ২০১৬ সালের, যেখানে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক মহিলাকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ ছিল। আদালত তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগকারিণী মহিলা জানান যে- ২০১৩ সালে আনসারির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল। আনসারি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রায়ই বারাণসীতে আসতেন। অভিযোগ, আনসারি ওই মহিলাকে নিজের হোটেলে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতন করেন এবং সেই ঘটনার ভিডিও তুলে রাখেন।

ওই মহিলা আরও অভিযোগ করেন যে, বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে আনসারি বিভিন্ন হোটেলে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং পরবর্তীতে তাঁ হুমকি ও ব্ল্যাকমেল করেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ২০১৫ সালের ১৯ নভেম্বর ওই মুসলিম ধর্মপ্রচারক আনসারির বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল।