আজকাল ওয়েবডেস্ক: হায়দরাবাদের এক বেসরকারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির এক হিন্দু শিক্ষার্থীকে বাড়ি কাজ হিসেবে ইসলামীয় প্রার্থনা মুখস্থ করতে দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ছয় বছরের ওই শিশুর ডায়েরিতে ‘প্রথম ও দ্বিতীয় কালমা’ এবং ‘ফাতেহা’ পড়ার নির্দেশ লেখা ছিল বলে দাবি করেছে তার পরিবার। বিষয়টি জানতে পেরেই ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা স্কুল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, কোনও শিক্ষার্থীকে তার নিজের ধর্মের পরিপন্থী ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণে বাধ্য করা যায় না।
শিশুটির পরিবারের তরফ থেকে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয়, এর আগেও একদিন একই ধরনের নির্দেশ ডায়েরিতে লেখা হয়েছিল, যা পরে কেটে দেওয়া হয়। তাঁদের অভিযোগ, শুরুতে স্কুল কর্তৃপক্ষ এই পাঠকে সব শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক বলে দাবি করলেও, বিতর্ক বাড়তেই তারা ভুলবশত এমনটি ঘটেছে বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে। অনভিপ্রেত এই ঘটনায় শিশুটি মানসিক ট্রমার মধ্য দিয়ে গিয়েছে উল্লেখ করে পরিবারটি শিক্ষা দপ্তরের কাছে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ইতিমধ্যেই ঘটনাটিকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিজেপি নেতারা ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং অভিযুক্ত স্কুলের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি তোলেন। কোমলমতি শিশুদের ওপর ধর্মীয় চিন্তা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুরো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর জন্য সবাইকে অনুরোধ করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গিয়েছে, ওই নির্দিষ্ট ক্লাসে মোট ২৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, যাদের মধ্যে কেবল এই শিশুটিই হিন্দু ধর্মের। অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি, অসাবধানতাবশত ওই হিন্দু শিক্ষার্থীর ডায়েরিতেও অন্য শিক্ষার্থীদের মতো একই পাঠ লিখে ফেলা হয়েছিল। অভিভাবকরা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং পুলিশ পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য আইনি পরামর্শ নিচ্ছ।
















