আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাধারণ মানুষের জন্য সুখবর। সরকার জাতীয় রেশন বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (পিডিএস) বা গণবণ্টন ব্যবস্থা থেকে লক্ষ লক্ষ অযোগ্য সুবিধাভোগীকে বাদ দেওয়ার ফলে, এখন প্রায় ৩ কোটি নতুন যোগ্য ব্যক্তি রেশন কার্ড পাওয়ার যোগ্য হয়ে উঠেছেন। কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী ঘোষণা করেছেন যে, প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে যোগ্য পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য রাজ্যগুলোকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
গণবণ্টন ব্যবস্থার (পিডিএস) দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রেশন কার্ড গ্রাহকদের বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় খাদ্য ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। ভুয়ো ও অযোগ্য সুবিধাভোগীদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর, সারা দেশে প্রায় ৩ কোটি নতুন রেশন কার্ড ইস্যু করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
যোশী জানান যে খাদ্য মন্ত্রক, সারা দেশে ৮ কোটি ৫১ লক্ষ (৮৫.১ মিলিয়ন) অযোগ্য সুবিধাভোগীকে চিহ্নিত করেছে। যার মধ্যে মৃত ব্যক্তি, করদাতা এবং চার চাকার গাড়ির মালিকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য এই তালিকা রাজ্যগুলোর সাথে ভাগ করে নেওয়া হয়েছিল। রাজ্য কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই রেশন কার্ডের তালিকা থেকে ২ কোটি ২১ লক্ষ (২২.১ মিলিয়ন) অযোগ্য সুবিধাভোগীর নাম বাদ দিয়েছে। মন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি কোনো নাম বাদ দেয়নি।
বর্তমানে ৮০ কোটি মানুষ বিনামূল্যে রেশন সুবিধা পাচ্ছেন
রাজ্যগুলোকে রেশন ব্যবস্থায় যোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৩ কোটি নতুন সুবিধাভোগী রেশন কার্ড পেতে পারেন। 'প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা'-এর আওতায় ৮০ কোটি মানুষকে বিনামূল্যে খাদ্যশস্য প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ৭৯ কোটি মানুষ সরকারি রেশন কর্মসূচির সুবিধা পাচ্ছেন।
যোশী জোর দিয়ে বলেন যে, পিডিএস-এর ডিজিটালাইজেশন বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে। আধার এবং ই-পিওএস মেশিনের মাধ্যমে ৯৮.৫ শতাংশ রেশন বিতরণ যাচাই করা হচ্ছে এবং স্মার্ট গুদাম ও আধুনিক ডিপোর মতো প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ছে। সরকারের মূল লক্ষ্য খরচ কমানো নয়, বরং সরকারি খাদ্যশস্য যাতে প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে পৌঁছায় তা নিশ্চিত করা। রেশন বিতরণ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ করা এবং এতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করাই এখন সরকারের অগ্রাধিকার।















