আজকাল ওয়েবডেস্ক: অশ্লীল 'কন্টেন্টের' জেরে মঙ্গলবার পাঁচটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ওপর কোপ বসাল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের নির্দেশে ‘মুড এক্স ভিআইপি’, ‘কোয়েল প্লে প্রো’, ‘ডিজি মুভিপ্লেক্স’, ‘ফিল’ এবং ‘জুগনু’- এই পাঁচটি অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারি সূত্রের খবর, এই প্ল্যাটফর্মগুলিতে যে ধরনের ভিডিও বা বিষয়বস্তু দেখানো হচ্ছিল, তা দেশের 'অশ্লীলতা বিরোধী আইনকে' বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে। ফলে জনমনে শালীনতা বজায় রাখতে এবং সুস্থ সমাজ গঠনের স্বার্থেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে গ্রাহকরা আর এই প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করতে না পারেন। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯-এ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এই পদক্ষেপ করেছে দিল্লি। 

মূলত জাতীয় নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা এবং নৈতিকতা রক্ষার খাতিরেই সরকার এই ধরনের কড়া পদক্ষেপ করে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার সকালে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিভ্রাটের মুখে পড়ে জনপ্রিয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। ভারত-সহ একাধিক দেশের লক্ষ লক্ষ ব্যবহারকারী এই সমস্যার সম্মুখীন হন। অ্যাপ খোলা বা ভিডিও চালানোর চেষ্টা করলেই স্ক্রিনে ফুটে উঠছিল একটিই বার্তা- ‘সামথিং ওয়েন্ট রং’।

পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার খবর নজরদারি চালানো ওয়েবসাইট ‘ডাউনডিটেক্টর’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অল্প সময়ের ব্যবধানেই অভিযোগের পাহাড় জমে ওঠে। 

শুধুমাত্র আমেরিকাতেই প্রায় ৩ লক্ষ ২০ হাজার ব্যবহারকারী সমস্যার কথা জানান। যার বড় অংশই ছিল অ্যাপ ব্যবহার এবং ভিডিও স্ট্রিমিং সংক্রান্ত। ভারতের ক্ষেত্রেও ছবিটা ছিল একই রকম। এ দিন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যে এই বিভ্রাট চরমে পৌঁছয়। 

ভারতে সেই সময় প্রায় ২০ হাজার অভিযোগ জমা পড়ে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় ৭৪ শতাংশ ব্যবহারকারী অ্যাপ খুলতে পারছিলেন না এবং ১৬ শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে ভিডিও স্ট্রিমিং থমকে গিয়েছিল।

ইউটিউবের মূল প্ল্যাটফর্মের পাশাপাশি ব্যাহত হয়েছে তাদের লাইভ টেলিভিশন স্ট্রিমিং পরিষেবা ‘ইউটিউব টিভি’-ও। সেখানেও প্রায় ১০ হাজার গ্রাহক পরিষেবা না মেলার অভিযোগ করেন। অর্থাৎ, স্রেফ সাধারণ ভিডিও দেখাই নয়, লাইভ টিভি দেখার ক্ষেত্রেও বড়সড় ধাক্কা খান গ্রাহকরা।

বুধবার সকালের বিভ্রাটে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হন নেটিজেনরা। পেজ রিফ্রেশ করতে গেলেও বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির বার্তা আসছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং অভিযোগের সংখ্যাও কমতে থাকে।