আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ১ ফেব্রুয়ারি ‘অরেঞ্জ ইকোনমি’ বা সৃজনশীল অর্থনীতিকে জোরদার করার লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন।
চলতি বছরের বাজেটে অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং ও কমিক্স (AVGC) খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, মুম্বইয়ের ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিসের সহায়তায় দেশের ১৫,০০০টি মাধ্যমিক স্তরের স্কুল এবং ৫০০টি কলেজে অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং ও কমিক্স (AVGC) কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপন করা হবে।
এই খাতে প্রতিভা বিকাশের জন্য এই বছরের বাজেটে সরকার বরাদ্দ করেছে ২৫০ কোটি টাকা। পাশাপাশি ন্যাশনাল ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (NFDC) এবং ন্যাশনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স ফর অ্যানিমেশন, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস, গেমিং ও কমিক্স–এক্সটেন্ডেড রিয়ালিটি-এর জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩৫ কোটি টাকা করা হয়েছে।
আগের অর্থবর্ষে এই বরাদ্দ অর্থের পরিমাণ ছিল ১৭ কোটি টাকা। বাজেট বক্তৃতায় নির্মলা সীতারামন আরও জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতে প্রায় ২০ লক্ষ পেশাদার কর্মীর প্রয়োজন হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
গ্রান্ট থরন্টন ভারত-এর পার্টনার ও ন্যাশনাল মিডিয়া অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্ট ইন্ডাস্ট্রি লিডার অনন্য জৈন বলেন, ‘এই বছরের বাজেট ডিজিটাল পরিকাঠামোকে সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করছে। ডেটা সেন্টার, এআই-চালিত কনটেন্ট তৈরি, AVGC স্টুডিও এবং আইপি মালিকানার ক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দেওয়া হলে ভারতীয় নির্মাতা ও প্ল্যাটফর্মগুলি দেশের মধ্যেই তাদের সৃষ্ট মূল্যের বড় অংশ ধরে রাখতে পারবে, বিদেশে রপ্তানি করতে হবে না।’
তিনি আরও বলেন, সরকার IICT মুম্বইয়ে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে এবং ১৫,০০০টি মাধ্যমিক স্কুল ও ৫০০টি কলেজে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব স্থাপনের মাধ্যমে ২০ লক্ষ শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অন্যদিকে, বিঞ্জ ল্যাবস-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা আর্যন অনুরাগ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বাজেটে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ল্যাব এবং AVGC পরিকাঠামোর উপর জোর দেওয়া উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই নতুন উদ্যোগ অর্থনীতিকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত শিল্প এবং একটি গ্রহণযোগ্য পেশাগত পথ হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্কুল ও কলেজ স্তরে এই ধরনের ল্যাব চালু হলে মহানগরের বাইরের ছাত্রছাত্রীদের কাছেও সৃজনশীল প্রযুক্তির সুযোগ পৌঁছে যাবে। এর ফলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ডিজাইনার ও ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের একটি শক্তিশালী ধারাবাহিক পাইপলাইন তৈরি হবে। তবে পরিকাঠামোর পাশাপাশি পরামর্শদাতা ও শিল্পক্ষেত্রের সংযোগ থাকাই হবে আসল সাফল্যের চাবিকাঠি, যাতে তরুণ নির্মাতারা শুধু কনটেন্ট তৈরি নয়, সেই কনটেন্টের উপর ভিত্তি করে কেরিয়ার গড়তেও শিখতে পারে।’
