আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের রাজ্যসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনীতির অন্দরে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। নির্বাচনে বিপুল রাজনৈতিক তৎপরতার পর জয়ী হয়ে ঝাড়খণ্ডের মানুষ এবং যে সমস্ত বিধায়করা দলমত নির্বিশেষে তাঁকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন, তাঁদের প্রত্যেককে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী পরিমল নাথওয়ানি। জয়লাভের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় তিনি লেখেন, "সম্পূর্ণ নতুন উদ্যম, নিষ্ঠা এবং সততার সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের আমজনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে এবং এই রাজ্যের সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষায় আমার প্রতিটি প্রচেষ্টা সর্বদা জারি থাকবে। জোহার ঝাড়খণ্ড!"
মূলত গুজরাতের বাসিন্দা এবং দেশের প্রথম সারির কর্পোরেট সংস্থা রিলায়েন্স গোষ্ঠীর অন্যতম শীর্ষকর্তা পরিমল নাথওয়ানির সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের মাটির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক অলিন্দে তিনি অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রভাবশালী একটি নাম। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সুদীর্ঘ ১২ বছর তিনি পরপর দুই মেয়াদে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রতীক ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র বা নির্দল প্রার্থী হিসেবে ঝাড়খণ্ড থেকে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। সেখানে নিজের কাজের মেয়াদ শেষ করার পর, শেষ দফায় তিনি অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির (YSRCP) টিকিটে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন।
দীর্ঘ বছর ধরে এই রাজ্যে কাজ করার সুবাদে পরিমল নাথওয়ানি ঝাড়খণ্ডের শাসক থেকে বিরোধী—সমস্ত রাজনৈতিক শিবিরের নেতাদের সঙ্গেই এক অনন্য ও সুমধুর ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। আর এই কারণেই এই নির্বাচনকে ঘিরে আগে থেকেই জল্পনা তুঙ্গে ছিল যে, তিনি এনডিএ (NDA)-র আনুষ্ঠানিক আসন সংখ্যার বাইরে থেকেও অন্য দলগুলোর বিধায়কদের ভোট নিজের ঝুলিতে টেনে নিতে পারেন।
সবচেয়ে মজার বিষয় হল, এই নির্বাচনের ঠিক আগে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তথা ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (JMM) নেতা হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে নাথওয়ানির একটি একান্ত বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়ে দিয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, তিনি হয়তো শাসক জোটের সমর্থনে ময়দানে নামছেন। তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি এনডিএ শিবিরের পূর্ণ সমর্থন লাভ করেন এবং আশা মতোই বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দলমতের ঊর্ধ্বে গিয়ে ঝাড়খণ্ডের রাজনীতিতে নিজের গভীর প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতাকে তিনি এই জয়ের মাধ্যমে আরও একবার প্রমাণ করলেন।















