আজকাল ওয়েবডেস্ক: আজ ভারত বনধ। যেখানে সামিল ৩০ কোটি শ্রমিক। ওড়িশা, বাংলা, কর্ণাটকে ভারত বনধের জেরে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ভারত বনধের জেরে মাঝপথে আটকে পড়লেন এক পাত্র। জাতীয় সড়কে আটকে দেওয়া হয়েছে তাঁর গাড়ি। বিয়ের দিনে ভারত বনধের জেরে তুমুল ভোগান্তির শিকার তাঁরা।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার ভুবনেশ্বরে। বৃহস্পতিবার সকালে বিয়ের আসরে যাওয়ার পথেই আটকে পড়েন পাত্র ও বরযাত্রীরা। ভুবনেশ্বরের জয়দেব বিহার স্কোয়ারে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকেন তাঁরা। কারণ বনধের জেরে এদিন জাতীয় সড়ক অবরোধ রয়েছে। যার জেরে দীর্ঘ যানজটের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অশান্তির সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।
পাত্রের নাম, আব্দুল ফৈয়ম খান। বালাসোরের সোরো থেকে কোরধা যাচ্ছিলেন তিনি। জয়দেব বিহারে যানজটে আটকে পড়েন বরযাত্রীদের সঙ্গে। অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিও হয় তাঁদের। বিয়ের কথা শুনেও যান চলাচলে অনুমতি মেলেনি বলেই জানা গিয়েছে।
বনধে আটকে পড়া ওই পাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, 'আজকে ভারত বনধ, তা আমরা জানতাম। কিন্তু কয়েক মাস আগেই আমাদের বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়। তখনও ভারত বনধের ঘোষণা হয়নি। প্রচুর অর্থ ব্যয় করা হয়েছে অনুষ্ঠানের জন্য। অবরোধকারীদের বহুবার অনুরোধ করা হয়েছে, শুধুমাত্র আমাদের গাড়িটিকে ছাড়ার জন্য।'
জাতীয় সড়কে অবরোধ ও অশান্তির খবর পেয়েই তড়িঘড়ি বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। খানিকক্ষণের চেষ্টার পর অবরোধ তুলে দেওয়া হয় জাতীয় সড়কে। যান চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে সেখানে।
প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে দেশব্যাপী ১২ ঘণ্টা ভারত বনধের ডাক দিয়েছে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন। ট্রেড ইউনিয়নগুলির সঙ্গে বনধে সামিল হয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি, ব্যাঙ্ক কর্মচারী ও অফিসার সংগঠনগুলিও। কমপক্ষে ৩০ কোটি শ্রমিক এই বনধে অংশগ্রহণ করছেন আজ। মোট ১১ দফা দাবিতে রাজ্যে বনধে সামিল সিআইটিইউ।
১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ—INTUC, AITUC, HMS, CITU, AIUTUC, TUCC, SEWA, AICCTU, LPF এবং UTUC—এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। সংগঠনগুলির দাবি, গত বছর ২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে যে চারটি শ্রম কোড চালু করা হয়েছে, তা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী। তাদের অভিযোগ, নতুন কোডে শ্রমিকদের অধিকার খর্ব হয়েছে, চাকরির নিরাপত্তা কমেছে এবং নিয়োগকর্তাদের কর্মী নিয়োগ ও ছাঁটাই সহজ হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারিকরণ, মজুরি কাঠামো এবং সামাজিক সুরক্ষার অভাব নিয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
