আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি গাজিয়াবাদে তিন নাবালিকার মৃত্যু ঘিরে দেশজুড়ে হুলুস্থুল। তিন বোনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিশিকা, প্রাচী ও পাখি- এই তিন বোনের ডায়েরি ঘাঁটতে গিয়ে তদন্তকারীরা এমন কিছু মোবাইল গেমের নাম পেয়েছেন, যা কিশোর মনের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পুলিশ ও শিক্ষা দপ্তরের কর্তাদের মতে, এই 'হরর' বা ভয়ংকর সব গেমের নেশাই হয়তো ওই তিন বোনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
পুলিশি সূত্রের খবর, মূলত চারটি গেমের প্রতি আসক্ত ছিল ওই কিশোরীরা। 'পপি প্লে-টাইম', 'দ্য বেবি ইন ইয়েলো', 'ইভিল নান' এবং 'আইস ক্রিম'। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই গেমগুলি কেবল খেলা নয়, এর মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে হিংসা ও নানারকম মানসিক চাপ। এগুলিই কার্যত অল্পবয়সিদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে।
তদন্তে উঠে আসা গেমগুলি ঠিক কী ধরণের?
পপি প্লে-টাইম: একটি অন্ধকার পরিবেশে আচমকা ভয় দেখানোই এই গেমের মূল লক্ষ্য। গেমের মধ্যে নিজেকে অন্যের থেকে বাঁচাতে হয়।
দ্য বেবি ইন ইয়েলো: শিশুদের খেলার নাম করে এর আড়ালে এখানে একটি অতিপ্রাকৃত ও দানবীয় শিশুকে দেখানো হয়েছে।
ইভিল নান: স্কুলের ভিতরে এক ভয়ংকর সন্ন্যাসিনীর হাত থেকে বাঁচার লড়াই চলে এই গেমে।
আইস ক্রিম: এক বিক্রেতা শিশুদের অপহরণ করে জমিয়ে ফেলছে- এমন এক ভীতি কাজ করে এই কাহিনিতে।
উল্লেখ্য, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে নিজেদের ফ্ল্যাটের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দেয় ১৬, ১৪ ও ১২ বছর বয়সি তিন বোন। পুলিশ জানতে পেরেছে, তাদের বাবা চেতন কুমার মেয়েদের ফোনের নেশা দেখে মোবাইল কেড়ে নিয়েছিলেন। এর পরই উদ্ধার হয় আট পাতার এক সুইসাইড নোট। তদন্তকারীদের মতে, দীর্ঘ সময় ফোনে মগ্ন থাকা এবং বাস্তব জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ফলেই এমন মানসিক বিপর্যয়।
মনোবিদরা বারবার সতর্ক করছেন, স্রেফ বিনোদনের নামে এই ধরণের ভয়ঙ্কর গেম আসলে শিশুদের একাকিত্ব এবং জেদ ক্রমেই বাড়িয়ে তুলছে। অভিভাবকদের প্রতি প্রশাসনের পরামর্শ- সন্তান হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যাচ্ছে কি না বা তার আচমকা মেজাজ পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সেদিকে কড়া নজর রাখুন। প্রয়োজনে মোবাইলে 'প্যারেন্টাল লক' ব্যবহার করারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
