আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার বিকেলে দু’দিনের সরকারি সফরে ত্রিপুরায় পৌঁছেছেন। তাঁর এই সফরকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। শিলংয়ে উত্তর-পূর্ব পরিষদ (এনইসি)-এর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের উদ্বোধন ও বৈঠক শেষ করার পর ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে আগরতলায় পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী  প্রফেসর ডা: মানিক সাহা, সাংসদ  রাজীব ভট্টাচার্য, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র  দীপক মজুমদার, বিজেপির রাজ্য সভাপতি  তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরাই। তাঁরা ফুল ও ঐতিহ্যবাহী রিসা পরিয়ে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। 

বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বিএসএফ ত্রিপুরা ফ্রন্টিয়ার সদর দপ্তর, শালবাগানে যান অমিত শাহ। সেখানেই তিনি রাতযাপন করবেন। শুক্রবার সকালে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে গোমতী জেলার উদয়পুরে মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির পুজো দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর উদয়পুর থেকে ফিরে বিএসএফ সদর দপ্তরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সীমান্তে  যে স্থানগুলিতে এখনো কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ হয়নি সে স্থানগুলিতে বেড়া নির্মাণের অগ্রগতি এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ সহ আট জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার এবং বিএসএফের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে আগরতলার ঐতিহাসিক পুরনো রাজভবন প্রাঙ্গণে প্রস্তাবিত পুষ্পবন্ত প্রাসাদ হোটেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভূমিপুজো অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন অমিত শাহ। এই প্রকল্প ত্রিপুরার পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং রাজ্যের ঐতিহ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। সফরকালে তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকাও পরিদর্শন করবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।  কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার সন্ধ্যায় দিল্লির উদ্দেশ্যে ফিরে যাবেন।

পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক ডা. বিশাল কুমার জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে রাজ্যের নিরাপত্তা প্রস্তুতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে পশ্চিম ত্রিপুরাসহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুশাসন, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।