আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় সেনার কাছে 'কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা' বা ‘এআই’ এখন আর কোনও ভবিষ্যতের স্বপ্ন নয়, বরং যুদ্ধের ময়দানে এক অনিবার্য বাস্তব। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। তাতে যোগ দেন ডিআরডিও-র পদস্থ কর্ত্রী চন্দ্রিকা কৌশিক। তিনি স্পষ্ট জানালেন, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে এই প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের অপেক্ষা।

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চন্দ্রিকাদেবী জানান, আধুনিক যুদ্ধে তথ্যের পাহাড় জমে সেনার কাছে। এক জন রক্তমাংসের মানুষের পক্ষে এত কম সময়ে সেই বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রায় অসম্ভব। ঠিক এই কাজটাই নিখুঁতভাবে করতে পারে এআই। তাঁর কথায়, “এআই নিজে থেকেই শিখতে পারে। যন্ত্র যখন নিজের বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে রণকৌশল ঠিক করে, তখন তা মানুষের মস্তিষ্কের চেয়েও দ্রুত কাজ করে।” ভবিষ্যতে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে এই প্রযুক্তিই হবে তুরুপের তাস।

ইতিমধ্যেই ভারতের নজরদারি ব্যবস্থা এবং লক্ষ্যভেদী অস্ত্রশস্ত্রের আধুনিকীকরণে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান। তবে বিশ্বের বহু দেশের সঙ্গে প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও, ভারতের নিজস্ব কৌশলের বিষয়ে কোনও আপস করতে রাজি নন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন যুদ্ধ এবং ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর অভিজ্ঞতা থেকে একটি বড় পাঠ নিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। আর তা হলো ‘স্বনির্ভরতা’।

চন্দ্রিকাদেবীর সাফ কথা, “ভারতকে নিজের পায়ে দাঁড়াতেই হবে।” বিদেশের তৈরি এআই মডেল বা তথ্যের ওপর নির্ভর করলে বিপদের ঝুঁকি থাকে। বিদেশি প্রযুক্তিতে কোনও গোপন ফাঁদ বা ‘ব্যাকডোর’ আছে কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন।

তাই ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যে ডিআরডিও-র মন্ত্র এখন একটাই- নিজেদের তথ্য দিয়ে তৈরি হোক নিজেদের এআই। তাঁর মতে, দেশের পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই নিজস্ব প্রযুক্তিই বিপদের সময় আসল ভরসা জোগাবে। ভারতের বার্তা পরিষ্কার: অস্ত্র তো বটেই, প্রযুক্তির মাথাটিও হওয়া চাই খাস ভারতীয়।