আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রতিবাদে মুখর দিল্লি। যন্তর মন্তর থেকে ক্রমশ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে দেশের একাধিক শহরে। এরই মধ্যে গত সোমবার কররোচ জনতা পার্টির ডাকে সংসদ অভিযানকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার অবস্থায় হয় রাজধানীর। প্রতিবাদের মারধর-সহ নানাভাবে দমনপীড়নের অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। তাতে প্রতিবাদের রেশ আরও জোড়ল হয়েছে। অশনি সঙ্কেতের আঁচ পাচ্ছে মোদি সরকার। এসবের মধ্যেই বিবৃতি জারি করল রাষ্ট্রী স্বংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্র সংগঠন ‘অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ’ (এবিভিপি)। সংগঠনের তরফে প্রতিবাদীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনার নিন্দা জানান হয়েছে।

এক বিস্তারিত বিবৃতিতে এবিভিপি পুরো বিষয়টিকে 'পরিকল্পিতভাবে উসকে দেওয়া' হিংসা বলে নিন্দা জানিয়েছে। শিক্ষার্থী ও নিরাপত্তা কর্মীদের আহত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে যে, 'নিট-ইউজি এবং শিক্ষা সংস্কারের দাবি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় যন্তর মন্তরে যে বিশৃঙ্খলা, জনজীবনে ব্যাঘাত এবং হিংসা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, এবিভিপি তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।'

এবিভিপি-র দাবি কী?
প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি উচ্চ-পর্যায়ের সরকারি প্যানেল গঠনেরও দাবি জানিয়েছে এবিভিপি। সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে যে, পরীক্ষার অনিয়মের বিরুদ্ধে তারা শিক্ষার্থীদের পাশে রয়েছে। তাতে গত মে মাসে প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে বাতিল হওয়া নিট-ইউজি পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত।

ছাত্র সংগঠনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অভিযোগগুলোর সমাধান কেবল অর্থবহ আলোচনা, সহানুভূতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমেই হওয়া উচিত।'

একদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নিন্দা ও শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার কথা বললেও, ২০ জুলাই যন্তর মন্তরে ছড়িয়ে পড়া হিংসার নেপথ্যে 'দুষ্টু' রাজনৈতিক স্বার্থের অভিযোগও তুলেছে এবিভিপি। ওই দিনই সিজেপি সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ডাক দিয়েছিল।

আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন বলেছে, 'এবিভিপি বিশ্বাস করে যে, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সমস্যা ও ন্যায্য দাবিগুলোকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ, দেশবিরোধী এজেন্ডা বা দেশে অস্থিতিশীলতা, সংঘাত ও বিশৃঙ্খলার পরিবেশ তৈরির কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।'

যন্তর মন্তরে কী ঘটেছিল? 
নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে জবাবদিহির দাবিতে সিজেপি-র ডাকে বিক্ষোভে সমর্থন জানিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী যন্তর মন্তরে সমবেত হওয়ার পর সেখানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাঁদতে এবং পুলিশের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলতে দেখা গিয়েছে। তবে বুধবার দিল্লি পুলিশ, হাইকোর্টকে জানায় যে, ওই বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল না এবং সেখানে উপস্থিত জনতা 'পাথর ছুঁড়েছিল'।

বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় এসআইটি (বিশেষ তদন্তকারী দল) তদন্তের আবেদনের ওপর শুনানিকালে দিল্লি পুলিশ তাদের বক্তব্যে জানায়, "জনতা উশৃঙ্খল হয়ে পড়েছিল এবং হিংসা চালিয়েছিল।"

সিজেপি-র নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিক্ষোভ এবং পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন কর্মসূচি বেশ কয়েক দিন ধরেই চলছে। নিট-ইউজিপরীক্ষার বিষয়টি নিয়ে ফের পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ আসার পর একাধিক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বাধীন সিজেপি-র সদস্য ও সমর্থকরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।