আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির সুরাপায়ীদের জন্য মন খারাপের খবর। আপাতত রাজধানীতে বসে নিজেদের পছন্দের ‘অ্যাবসলুট ভদকা’র গ্লাসে চুমুক দেওয়ার আশা ছাড়তে হচ্ছে তাঁদের। শুক্রবার ফরাসি মদ প্রস্তুতকারক সংস্থা ‘প্যার্নো রিকার্ড’-এর আর্জিতে সাড়া দিল না দিল্লি হাইকোর্ট। 

রাজধানীতে ব্যবসা করার অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল এই ফরাসি বহুজাতিক সংস্থা। কিন্তু উচ্চ আদালত তা খারিজ করে দিয়েছে।

২০২১ সালের দিল্লির আবগারি নীতি কেলেঙ্কারির তদন্তে নাম জড়িয়েছিল প্যার্নো রিকার্ডের। আর সেই টানাপড়েনের জেরেই ২০২৩ সাল থেকে দিল্লিতে দেখা মিলছে না ‘অ্যাবসলুট ভদকা’ কিংবা ‘সিভাস রিগ্যাল’-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলির। এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ফরাসি এই সংস্থাকে রাজধানীতে ব্যবসা করার ছাড়পত্র দেওয়া যাবে কি না- তা নিয়েই এখন আইনি লড়াই তুঙ্গে।

সংস্থার বিপদ অবশ্য এখানেই শেষ নয়। কর ফাঁকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগেও নাম জড়িয়েছে তাদের। তদন্তকারীদের দাবি, আমদানিকৃত স্কচ হুইস্কির প্রকৃত সময়সীমা এবং মিশ্রণ সংক্রান্ত তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করেছিল এই সংস্থা। উদ্দেশ্য ছিল একটাই- পণ্যের আসল বাজারমূল্য আড়াল করে কম শুল্ক দেওয়া।

অভিযোগ সামনে আসতেই শুরু হয়েছে আইনি যুদ্ধ। জানা গিয়েছে, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা (৩১৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বকেয়া কর মেটানোর জন্য ফরাসি সংস্থাকে নোটিস পাঠানো হয়েছে।

গত ২৭ মে'র এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা গিয়েছে, তদন্তকারী সংস্থাগুলি নিশ্চিত হয়েছে যে স্কচ হুইস্কির আসল গুণমান ভাঁড়িয়েছিল প্যার্নো রিকার্ড। এর ফলে আমদানির প্রকৃত মূল্য অনেক কম দেখিয়ে কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। তবে সংস্থার পাল্টা দাবি, তদন্তে মূল্যের যে খতিয়ান ব্যবহার করা হয়েছে, তা তাদের দেখতে দেওয়া হয়নি।

যদিও প্যার্নো রিকার্ড ইন্ডিয়া সমস্ত অভিযোগ এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, “সংস্থা কোনও রকম বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়। সমস্ত নিয়ম মেনেই ব্যবসা করা হয়েছে। আমরা আইনি পথেই এর মোকাবিলা করছি। এই বিষয়ে আমরা সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।”

অভিযোগ, বাল্ক বা পাইকারি স্কচ কনসেনট্রেট আমদানির ক্ষেত্রে আসল মূল্যের চেয়ে প্রায় ৬৭.৪৯ শতাংশ কম দাম দেখিয়েছিল প্যার্নো। দিল্লির চড়া ১৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক এড়াতেই এই কারচুপি। জল এবং ক্যারামেল মিশিয়ে এই উপাদানটি দিয়েই ‘রয়্যাল স্ট্যাগ’-এর মতো হুইস্কি তৈরি করা হয়।

প্রশ্ন হল কত টাকার জরিমানা হতে পারে? বর্তমান বকেয়া কর ৩১৪ মিলিয়ন, ভারতে প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা। জরিমানা সহ মোট দায় ৬০০ মিলিয়ন, যা ভারতে প্রায় ৫,৭২৫ কোটি টাকা। 

গত বছরের মোট ভারতীয় আয় ২.৯ বিলিয়ন। প্রায় ২৭,৭০০ কোটি টাকা। আদালতের নথি অনুযায়ী, মামলায় হারলে সংস্থাকে জরিমানা সহ যে বিপুল পরিমাণ টাকা গুনতে হতে পারে, তা গত বছরে ভারতে সংস্থার মোট আয়ের এক-পঞ্চমাংশ এবং বার্ষিক লাভের প্রায় তিন গুণ!