নিতাই দে, আগরতলা: বহু জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে মনোনীত হলেন মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্ব তাঁর নামের উপর চূড়ান্ত সিলমোহর দেয়। এরপরই রাজ্যজুড়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসবের আবহ তৈরি হয়।

দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার অধিকারী অভিষেক দেবরায় বুথ সভাপতি থেকে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে জেলা সভাপতি এবং পরে মাতাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি গোমতী জেলার বিজেপি সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এবার তাঁকে রাজ্য সভাপতির গুরুদায়িত্ব দেওয়া হল।

নতুন সভাপতি ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে দিল্লি থেকে আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে পৌঁছন অভিষেক দেবরায়। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্যের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী কিশোর বর্মন, টিআইডিসির চেয়ারম্যান নবদল বণিক, যুবনেতা ভিকি প্রসাদ-সহ বহু বিজেপি নেতা-কর্মীরা।

বিমানবন্দর চত্বরে দলীয় কর্মীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নতুন সভাপতিকে ফুল ও মালা দিয়ে বরণ করেন কর্মীরা। পরে খোলা গাড়িতে বিশাল মিছিল করে অভিষেক দেবরায় কৃষ্ণনগরস্থিত প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় ও উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে।
প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা নতুন সভাপতিকে বিশাল ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিদায়ী প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য, বিজেপি জনজাতি মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বিপিন -দলের একাধিক নেতা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক দেবরায় জানান, দলের নীতি ও আদর্শকে আরও নীচুতলা পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি বুথ এবং পৃষ্ঠা প্রমুখদের শক্তিশালী করার উপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সংগঠনকে আরও সম্প্রসারিত করার দিকেও জোর দেওয়ার কথা জানান।

বিজেপির বিদায়ী রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, “অভিষেক দেবরায় বুথ সভাপতি থেকে ধাপে ধাপে উঠে আজ রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। এটি বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির অন্যতম উদাহরণ।” তিনি আরও বলেন, "নতুন সভাপতি সংগঠনকে আরও মজবুত করবেন এবং সরকার ও সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে ‘এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা’ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে।"

মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, “বিদায়ী সভাপতি যেভাবে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন, নতুন সভাপতিও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে প্রদেশ বিজেপিকে আরও শক্তিশালী করবেন।”

পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, “দল যে গুরুদায়িত্ব অভিষেক দেবরায়ের উপর অর্পণ করেছে, তা সফলভাবে পালন করে তিনি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবেন। ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।”

উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন বলেন, “বুথ স্তর থেকে উঠে এসে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া বিজেপির সাংগঠনিক সংস্কৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। দলের কর্মীরা নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছতে পারেন।”

বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল ১১টায় প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে বিদায়ী সভাপতির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন অভিষেক দেবরায়। পরে আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।