আজকাল ওয়েবডেস্ক: ওয়াংচুক অনশন ভেঙেছেন। কিছুটা নমনীয় কেন্দ্রও। নিট পরীক্ষা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে শেষমেশ শুক্রবার একটি নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠকে রাজি হয় কেন্দ্র। কিন্তু, সন্তুষ্ট নয় ককরোজ জনতা পার্টি। নিজেদের দাবিতে অনড় অভিজিৎ দীপকে। তাঁর সাফ ঘোষণা, যাই হোক না কেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।

৩০ বছরের অভিজিৎ বলেন, "সরকার যদি এই বিক্ষোভের সমাধান চায়, তবে তা কেবল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মাধ্যমেই সম্ভব।"
সিজেপি প্রধান আরও জোর দিয়ে বলেন, "আমরা নতি স্বীকার করব না। পদত্যাগ ছাড়া আর কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়।"
অর্থাৎ,  ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতৃত্বে আন্দোলন আপাতত থামছে না। 

সরকারের কাছ থেকে তাঁর মূল দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ২৬ দিনের অনশন শেষ করা সোনম ওয়াংচুক যদি তাকে বিক্ষোভ তুলে নিতে বলেন, তাহলে কী হবে? এই প্রশ্ন করা হলে দীপকে বলেন, "কোনও মতেই নয়।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, "এই আন্দোলন এখন আর কেবল অভিজিৎ দীপকে বা সোনম ওয়াংচুকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন সারা দেশের তরুণদের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। আর সে কারণেই দেশজুড়ে বিক্ষোভ চলছে। তাই পদত্যাগ ছাড়া অন্য কোনও কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়।" 

এর আগে সরকার জানিয়েছিল যে আলোচনা "যেকোনও সময়" হতে পারে, তবে আলোচনার স্থান হিসেবে কেবল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার বাসভবনকেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল।

পাল্টা সিজেপি নেতৃত্বও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে। তারা অনড় ছিলেন যে, সরকারকে হয় আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল যন্তর মন্তরে আসতে হবে, অথবা কোনও নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার আয়োজন করতে হবে।

এক্ষেত্রে সরকারই প্রথম নমনীয় মনোভাব দেখায়। আলোচনা চলছে 'কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়া'-তে।

সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাস সাংবাদিকদের বলেন, "একটি আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে সরকার একটি নিরপেক্ষ স্থানে বৈঠক করার বিষয়ে আমাদের অনুরোধ মেনে নিয়েছে এবং এর জন্য 'কনস্টিটিউশন ক্লাব অফ ইন্ডিয়া'-কে বেছে নেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "আমি আশা করি সরকার খোলা মন নিয়ে আসবে এবং জনগণের কথা শুনবে।"

উভয় পক্ষের মধ্যে সর্বশেষ আলোচনাটি হয়েছিল গত ২০ জুলাই। সে সময় সিজেপি-র জাতীয় মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা জেপি নাড্ডার বাসভবনে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই দুই নেতা অভিযোগ করেন যে, বৈঠকের সময় তাঁদের কার্যত 'আটকে রাখা' হয়েছিল। তাঁরা জানান, এরপরই তাঁরা জোর দাবি জানিয়েছিলেন যে সরকারের সঙ্গে পরবর্তী যেকোনও আলোচনা যেন কেবল কোনও নিরপেক্ষ স্থানেই হয়।