আজকাল ওয়েবডেস্ক: লোকসভায় বিদেশ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক নথিপত্রে প্রকাশ্যে এল প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর সংক্রান্ত ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক বা Ministry of External Affairs (MEA) লিখিত উত্তরে জানিয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির  বিদেশ সফরে মোট ৭৬২ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে সরকারি কোষাগার থেকে।

মন্ত্রকের জবাবে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে ব্যয় ছিল ১০০ কোটির বেশি। কিন্তু ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১৭৫ কোটিরও বেশি ছাড়িয়ে যায়। ওই বছরে প্রধানমন্ত্রী ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা ও পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশে সফর করেন। একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠক, শীর্ষ সম্মেলন এবং কূটনৈতিক কর্মসূচির কারণে ব্যয় বেড়েছে বলে মন্ত্রক জানিয়েছে।

কোন কোন খাতে ব্যয়?

MEA স্পষ্ট করেছে, সফরকালে আতিথেয়তার অধিকাংশ খরচ বহন করে সংশ্লিষ্ট আয়োজক দেশ। ভারত সরকারের খরচ প্রধানত হয়—

- নিরাপত্তা ব্যবস্থা
- সরকারি প্রতিনিধিদল
- মিডিয়া টিম
- অন্যান্য লজিস্টিক ব্যয়

২০১৪ সালের মে মাস থেকে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলের আকার ২৭ থেকে ৭২ জনের মধ্যে পরিবর্তিত হয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী। তবে ২০২৫ সালে পাঁচটি দেশ একসঙ্গে সফর করা এক বিশেষ ক্ষেত্রে প্রতিনিধিদলের সদস্যসংখ্যা ছিল ৯৫ জন—যা ছিল সর্বাধিক।

সরকারি নথিতে আরও উল্লেখ রয়েছে, কোভিড-পরবর্তী সময়ে বিদেশ সফরে সরকারি ব্যয় ছিল তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু পরবর্তী বছরগুলোতে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকের সংখ্যা বাড়ায় ব্যয়ও দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

&t=782s

বিদেশ মন্ত্রকের উত্তরে তুলনামূলক তথ্যও দেওয়া হয়েছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ-এর আমলে নির্দিষ্ট কিছু সফরের খরচ ছিল তুলনামূলকভাবে কম। উদাহরণস্বরূপ—

-২০১১ সালে আমেরিকা সফরে ব্যয়: ১০.৭৪ কোটি টাকা
- ২০১৩ সালে রাশিয়া সফরে ব্যয়: ৯.৯৫ কোটি টাকা
- ২০১১ সালে ফ্রান্স সফরে ব্যয়: ৮.৩৩ কোটি টাকা
- ২০১৩ সালে জার্মানি সফরে ব্যয়: ৬.০২ কোটি টাকা

তবে MEA জানিয়েছে, বর্তমান ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে মুদ্রাস্ফীতি, মুদ্রা বিনিময় হারের ওঠানামা, সফরে যাওয়া দেশের সংখ্যা, যাত্রাপথের দূরত্ব, নিরাপত্তা চাহিদা এবং প্রতিনিধিদলের আকারের মতো একাধিক কারণ রয়েছে।

এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একদিকে সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সক্রিয়তা বাড়ায় ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, সরকারি ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও সংযম বজায় রাখা জরুরি।

বিদেশ সফরকে ঘিরে এই পরিসংখ্যান শুধু আর্থিক ব্যয়ের প্রশ্ন নয়, বরং ভারতের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক উপস্থিতি ও আন্তর্জাতিক ভূমিকার প্রতিফলন বলেও মত বিশ্লেষকদের একাংশের।