ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। এবার বাজারে ধাতব ও কাগজের নোটের পাশাপাশি দেখা মিলবে পলিমার বা প্লাস্টিক নোটের।
2
14
বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোটকে আরও টেকসই করতে এবং জালনোট ঠেকাতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার এই উদ্যোগ।
3
14
সম্প্রতি রাজ্যসভায় সাংসদ নীরজ শেখরের এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন স্পষ্ট জানান, আরবিআই-এর প্রস্তাব মেনে ১০ টাকা ও ২০ টাকার প্লাস্টিক নোটের ট্রায়ালের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
4
14
অর্থমন্ত্রী রাজ্যসভায় লিখিত উত্তরে জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ট্রায়াল বা ক্ষেত্র পরীক্ষার জন্য ১০ টাকা ও ২০ টাকার ১০০ কোটি করে পলিমার ব্যাঙ্ক নোট বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
5
14
তবে এখনই কাগজের নোট সম্পূর্ণ উঠে যাচ্ছে না। এই নতুন পলিমার নোটগুলি প্রচলিত সাধারণ কাগজের নোটের পাশাপাশিই বাজারে লেনদেনের জন্য পাওয়া যাবে।
6
14
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল—কবে নাগাদ সাধারণ মানুষের হাতে আসবে এই বিশেষ নোট? এই প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমানে এই নোট ক্রয়ের প্রক্রিয়াটি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
7
14
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা সম্প্রতি জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক চললে আগামী অর্থবর্ষের শুরুতেই পরীক্ষামূলকভাবে এই নোটগুলির ট্রায়াল শুরু হতে পারে।
8
14
তবে ট্রায়াল সফল হওয়ার পরেই চূড়ান্তভাবে ডেট ঘোষণা করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ঠিক কত টাকা খরচ হতে পারে বা কোন নির্দিষ্ট দিন থেকে সার্বিক সরবরাহ শুরু হবে, তা এই মুহূর্তে নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
9
14
প্রচলিত সাধারণ ব্যাঙ্ক নোট তৈরি হয় মূলত সুতি বা সুতির সংমিশ্রণে তৈরি বিশেষ কাগজে। অন্যদিকে, পলিমার নোট তৈরি হয় এক ধরনের বিশেষ প্লাস্টিক সাবস্ট্রেট বা উপাদানে।
10
14
জলরোধক ও টেকসই: এই নোটগুলো খুব সহজে ছেঁড়ে না বা জলে ভিজলে নষ্ট হয় না। সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এগুলো দীর্ঘস্থায়ী হয়।
11
14
পরিচ্ছন্নতা: ধুলোবালি বা ময়লা সহজে নোটে আটকে থাকে না, ফলে এগুলো দীর্ঘদিন পরিচ্ছন্ন থাকে।
12
14
জালনোট প্রতিরোধ: পলিমার নোটে উন্নত মানের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যেমন—স্বচ্ছ উইন্ডো, মাইক্রো-অপটিক হোলোগ্রাম এবং বিশেষ ধরনের কালি ব্যবহার করা যায়, যা জাল করা অত্যন্ত কঠিন।
13
14
ভারতে ১০ টাকা এবং ২০ টাকার নোট প্রতিদিন বিপুল পরিমাণে হাতবদল হয়। ফলে অতি অল্প সময়েই এই নোটগুলো ময়লা, ছেঁড়া বা নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে আরবিআই-কে বিপুল খরচে বারবার নতুন কাগজের নোট ছাপাতে হয়।
14
14
প্লাস্টিক নোট ব্যবহারে এই পুনর্মুদ্রণের খরচ বহুলাংশে কমে যাবে। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে নানা ভুল তথ্য ও গুজব ছড়ালেও সরকার জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে উদ্বিগ্ন না হতে এবং অফিশিয়াল তথ্যের ওপর ভরসা রাখতে।