কম দামের সম্পত্তি কেনাবেচায় কাগজপত্রের ঝামেলা শিগগিরই কমতে পারে। আয়কর দপ্তর সম্প্রতি প্রস্তাবিত নতুন খসড়া আয়কর বিধিতে এমন একটি পরিবর্তনের কথা বলেছে, যেখানে ২০ লাখ টাকার কম মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি লেনদেনে স্থায়ী হিসাব নম্বর প্যান দেওয়া বাধ্যতামূলক থাকবে না। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে ১ এপ্রিল, ২০২৬ থেকে তা কার্যকর হতে পারে।
2
9
এই পরিবর্তনটি প্রস্তাবিত নতুন কর কাঠামোর অধীনে প্রকাশিত ড্রাফ্ট ইনকাম ট্যাক্স নিয়মের অধীনে। বর্তমানে বাড়ি, ফ্ল্যাট বা জমির মতো অস্থাবর সম্পত্তি কেনাবেচার ক্ষেত্রে লেনদেনের মূল্য ১০ লাখ টাকার বেশি হলেই প্যান নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। নতুন খসড়ায় সেই সীমা বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
3
9
এর ফলে ২০ লাখ টাকার নিচে সম্পত্তি লেনদেনে আর প্যান জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। তবে ২০ লাখ টাকা বা তার বেশি মূল্যের চুক্তির ক্ষেত্রে আগের মতোই প্যান বাধ্যতামূলক থাকবে। অর্থাৎ, উচ্চমূল্যের সম্পত্তি লেনদেনে কর কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও রিপোর্টিং ব্যবস্থায় কোনো শিথিলতা আসছে না।
4
9
খসড়া বিধিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, উপহার হিসেবে সম্পত্তি হস্তান্তর বা যৌথ উন্নয়ন চুক্তির (জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্ট) মতো বিশেষ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সম্পত্তির মূল্য নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলে প্যান রিপোর্টিংয়ের নিয়ম প্রযোজ্য হবে। ফলে কেবল সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় নয়, অন্যান্য সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সীমার ওপরে লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় থাকবে।
5
9
গত কয়েক বছরে দেশে সম্পত্তির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১০ লাখ টাকার পুরনো সীমা অনেক ক্ষেত্রেই ছোট বা মাঝারি মানের লেনদেনকেও প্যানের আওতায় নিয়ে আসছিল। বিশেষ করে ছোট শহর বা মফস্বল এলাকায় তুলনামূলক কম মূল্যের বাড়ি বা জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও প্যান বাধ্যতামূলক হওয়ায় অনেকের কাছে তা বাড়তি প্রশাসনিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
6
9
সীমা ২০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হলে বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে নিয়মের একটি বাস্তবসম্মত সামঞ্জস্য তৈরি হবে বলে মনে করছেন কর বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, সম্পত্তির মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে পুরনো সীমা আর বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত করছিল না। নতুন প্রস্তাব ছোট ক্রেতা ও পরিবারভিত্তিক সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে।
7
9
সরকার প্যানের বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি তুলে দিচ্ছে না। ২০ লাখ টাকা বা তার বেশি মূল্যের সম্পত্তি লেনদেনে প্যান নম্বর দেওয়া আগের মতোই আবশ্যক থাকবে। এর মাধ্যমে কর দপ্তর কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি ক্রয়ের তথ্যকে তাঁর আয়ের নথির সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে এবং উচ্চমূল্যের রিয়েল এস্টেট লেনদেন পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম হয়।
8
9
প্যান রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য কর ফাঁকি রোধ, অঘোষিত আয় চিহ্নিতকরণ এবং সম্পত্তি বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়। তাই ছোট লেনদেনে শিথিলতা এলেও বড় অঙ্কের চুক্তিতে কঠোর রিপোর্টিং ব্যবস্থাই বজায় থাকবে।
9
9
সব মিলিয়ে, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কম মূল্যের সম্পত্তি লেনদেনে কাগজপত্রের ঝামেলা কমবে, আর বড় লেনদেনে আগের মতোই কঠোর নজরদারি চলবে—এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে নতুন খসড়া বিধি।