ঘুমের মধ্যেই স্বমেহন! ‘সেক্সসমনিয়া’য় ভুগছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ, বলছে নতুন গবেষণা
নিজস্ব সংবাদদাতা
৪ মার্চ ২০২৬ ১৬ : ১৪
শেয়ার করুন
1
8
এক সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ ‘সেক্সসমনিয়া’ নামে পরিচিত এক ধরনের ঘুমজনিত সমস্যায় ভুগতে পারেন—অনেকেই হয়তো তা বুঝতেই পারেন না। 'স্লিপ সায়েন্স' জার্নালে এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। গত ২০২১ সালের একটি গবেষণার উপর ভিত্তি করে প্রতিবেদনটি লেখা হয়। মহিলা, পুরুষ উভয়েই এই সমস্যায় ভুগতে পারেন।
2
8
‘সেক্সসমনিয়া’ হল এমন একটি স্লিপ ডিসঅর্ডার, যেখানে ব্যক্তি ঘুমের মধ্যেই অনিচ্ছাকৃতভাবে যৌন আচরণে লিপ্ত হন। নরওয়ের University of Bergen-এর গবেষকরা এক হাজারেরও বেশি মানুষের উপর সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, প্রায় ১১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন যে জীবনে অন্তত একবার তাঁদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে। গত কয়েক মাসে এমন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন প্রায় ৬ শতাংশ।
3
8
এই আচরণের ধরন ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। সমীক্ষা অনুযায়ী, ঘুমের মধ্যে আত্ম-উদ্দীপনামূলক আচরণ সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। প্রায় ৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা ঘুমের মধ্যে সঙ্গীকে স্পর্শ করেছেন। পূর্ণ যৌন মিলনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল—মাত্র ২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এমন অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।
4
8
গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, ঘুমের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত চরমসুখ (অর্গ্যাজম) বা যৌনধর্মী শব্দ উচ্চারণও সেক্সসমনিয়ার লক্ষণ হতে পারে। তাঁদের মতে, এই সমস্যা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি প্রচলিত। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, “সেক্সসমনিয়া সম্ভবত পূর্বে যতটা ভাবা হত তার চেয়ে বেশি বিস্তৃত। আমাদের ফলাফল বলছে, সাধারণ জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জীবনের কোনও না কোনও সময়ে এটি অনুভব করেছেন।”
5
8
আচরণগত দিক থেকেও পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে ব্যক্তির আচরণ জাগ্রত অবস্থার তুলনায় আলাদা হয়—কেউ বেশি কোমল ও আবেগপ্রবণ হন, আবার কেউ তুলনামূলকভাবে আক্রমণাত্মক আচরণ করতে পারেন।
6
8
সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের মধ্যে এই সমস্যার প্রবণতা মহিলাদের তুলনায় বেশি। সাধারণত ঘুমিয়ে পড়ার প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি। মানসিক চাপ ও অতিরিক্ত ক্লান্তিকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন গবেষকরা।
7
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ‘প্যারাসমনিয়া’ শ্রেণির একটি সমস্যা—যেমন স্লিপওয়াকিং বা ঘুমের মধ্যে কথা বলা। সেক্সসমনিয়াও তেমনই এক অনিয়ন্ত্রিত আচরণ, যার জন্য সচেতন চিকিৎসা ও পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।
8
8
চিকিৎসকদের পরামর্শ, যদি এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটে বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করে, তবে লজ্জা না পেয়ে স্লিপ স্পেশালিস্ট বা মনোবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। যথাযথ চিকিৎসায় এই সমস্যার সমাধান সম্ভব।