সব সরকারি অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় আয়োজনে তিন মিনিট দশ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ‘বন্দেমাতরম’-এর ছয় স্তবকের অনুমোদিত সংস্করণ বাজানো বা গাওয়া বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্রীয় সরকার।
2
14
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিকতা ও প্রোটোকলের একরূপতা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও রাজ্যগুলির কাছে ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট সংস্করণ ও সময়সীমা সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
3
14
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় মুহূর্তে—বিশেষ করে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় এবং রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে—‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশন করতে হবে।
4
14
শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রপতির ভাষণ বা জাতির উদ্দেশে ভাষণের আগে ও পরে এই ছয় স্তবকের সংস্করণ বাজানো বা গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
5
14
এই নির্দেশ রাজ্যপালদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সরকারি কর্মসূচিতে রাজ্যপালের আগমন ও ভাষণের আগে এবং পরে নির্ধারিত সংস্করণের ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করতে হবে।
6
14
কেন্দ্রের মতে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে যাতে অভিন্ন প্রোটোকল অনুসরণ করা হয়, সেই লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ।
7
14
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে ‘বন্দেমাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন শুরুর পরপরই এই নির্দেশ জারি হয়েছে।
8
14
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি এক বছরব্যাপী উদ্যাপনের সূচনা করেন এবং জাতীয় সঙ্গীতকে সম্মান জানিয়ে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট ও স্মারক মুদ্রা প্রকাশ করেন। ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে এই কর্মসূচি চলবে।
9
14
ঐতিহাসিকভাবে ‘বন্দেমাতরম’ ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এক শক্তিশালী উদ্দীপনামূলক স্লোগান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল।
10
14
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৫ সালে অক্ষয় নবমীর দিনে গানটি রচনা করেন; ওই বছর দিনটি পড়েছিল ৭ নভেম্বর। পরবর্তী সময়ে এটি শুধু একটি গান নয়, বরং জাতীয় গর্ব ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক হয়ে ওঠে।
11
14
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, অনুমোদিত সংস্করণ নির্ধারণের ফলে ভবিষ্যতে ভিন্ন ভিন্ন রূপে বা অসম্পূর্ণভাবে গান পরিবেশনের প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে সময়সীমা নির্দিষ্ট থাকায় অনুষ্ঠানসূচি মেনে চলাও সহজ হবে।
12
14
তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে ‘বন্দেমাতরম’ প্রসঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে।
13
14
বিরোধীদের একাংশের মত, সাংবিধানিক মর্যাদা ও ঐতিহ্যের বিষয়গুলি নিয়ে সংবেদনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। অন্যদিকে সরকারের বক্তব্য, জাতীয় ঐতিহ্যের মর্যাদা রক্ষা ও প্রোটোকলের সামঞ্জস্য বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
14
14
সব মিলিয়ে, ‘বন্দেমাতরম’-কে ঘিরে সরকারি উদ্যোগ নতুন মাত্রা পেল। আসন্ন এক বছরে দেশজুড়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও স্মারক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় সঙ্গীতটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে এর ভূমিকা নতুন করে তুলে ধরা হবে বলেই জানা গেছে।