শুক্রাণুর ঘনত্ব বাড়বে বীর্যে, নিয়মিত খান এই চকোলেট
নিজস্ব সংবাদদাতা
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০ : ১৫
শেয়ার করুন
1
8
চকলেট মানেই অনেকের কাছে মিষ্টি আনন্দের স্মৃতি। কিন্তু সব চকলেট শরীরের জন্য একরকম উপকারী নয়—বিশেষ করে প্রজনন স্বাস্থ্য বা ফার্টিলিটির ক্ষেত্রে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডার্ক চকলেট সঠিক পরিমাণে খেলে শরীরে এমন কিছু পুষ্টি ও জৈব উপাদান যোগায়, যা নারী ও পুরুষ উভয়ের উর্বরতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
2
8
প্রথমেই বুঝতে হবে কেন মিল্ক ও হোয়াইট চকলেট তুলনামূলকভাবে কম উপকারী। এই ধরনের চকলেটে দুধ ও চিনির পরিমাণ বেশি থাকে এবং কোকোর পরিমাণ কম। অতিরিক্ত চিনি রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতি ডিম্বাণুর পরিপক্বতা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দুধ চকলেটের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিতে পারে। ফলে প্রজনন স্বাস্থ্যের দিক থেকে ডার্ক চকলেটই তুলনামূলকভাবে ভালো বিকল্প।
3
8
তবে সব ডার্ক চকলেটও এক নয়। অন্তত ৭০ শতাংশ বা তার বেশি কোকোযুক্ত চকলেট বেছে নেওয়া উচিত। কোকো যত বেশি, তত বেশি পুষ্টিগুণ। কোকো পাউডার, কোকো নিবস বা কম প্রক্রিয়াজাত কাঁচা কোকোতেও বেশি উপকার পাওয়া যায়। ডার্ক চকলেট খনিজে ভরপুর। এতে রয়েছে আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও সেলেনিয়াম। এই খনিজগুলি শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর ডিএনএ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
4
8
কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এসব পুষ্টি উপাদান শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে। ম্যাগনেশিয়াম বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। অতিরিক্ত স্ট্রেস ডিম্বাণু ফোটার ক্ষেত্রে সমস্যা করতে পারে, তাই মানসিক স্বস্তি বজায় রাখা ফার্টিলিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
5
8
ডার্ক চকলেটে থাকা অ্যামিনো অ্যাসিড আর্জিনিন রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। উন্নত রক্তপ্রবাহ জরায়ুর আস্তরণকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে, যা ভ্রূণ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে, ডিম্বাশয়ে রক্তপ্রবাহ বাড়লে ফলিকল ও ডিম্বাণুর পুষ্টি সরবরাহ উন্নত হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে আর্জিনিন শুক্রাণুর গতিশীলতা ও পরিমাণ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে কিছু গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
6
8
এছাড়া ডার্ক চকলেট ফ্ল্যাভানল নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়, যা কোষের ক্ষতি ও বার্ধক্যের সঙ্গে জড়িত। পরিবেশ দূষণ ও টক্সিন পুরুষ বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত—এই প্রেক্ষিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে ফ্ল্যাভানল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্যন্ত্রে রক্তপ্রবাহ উন্নত করা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ভালো হৃদ্স্বাস্থ্য প্রজনন স্বাস্থ্যের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
7
8
ডার্ক চকলেট মন ভালো রাখতেও সাহায্য করে। এতে ট্রিপটোফ্যান, সেরোটোনিন ও বিটা-এন্ডোরফিনের মতো উপাদান রয়েছে, যা মানসিক স্বস্তি ও সুখের অনুভূতি বাড়ায়। স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল কমাতে সহায়তা করার মাধ্যমে এটি পরোক্ষভাবে হরমোনের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস গ্রন্থি হরমোন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, আর অতিরিক্ত মানসিক চাপ এই প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।
8
8
তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা জরুরি—ডার্ক চকলেট কোনও অলৌকিক ওষুধ নয়। এটি সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক সুস্থতার বিকল্প হতে পারে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম ডার্ক চকলেট যথেষ্ট। অতিরিক্ত খেলে ক্যালোরি বেড়ে ওজন বৃদ্ধি হতে পারে, যা উল্টো প্রজনন স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।