মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছে ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এর ফলে আগামী দু’বছর শাসন পরিচালনায় একাধিক বাধার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প।
2
12
শুধু আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, এই নির্বাচনের ফলাফল ভারত ও পাকিস্তানের উপরেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে বাণিজ্য চুক্তি, অভিবাসন নীতি এবং প্রতিরক্ষা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত চুক্তি নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
3
12
২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে থাকবেন ট্রাম্প। তবে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোয় নিজের ইচ্ছেমতো আইন প্রণয়ন বা নীতি কার্যকর করা তাঁর পক্ষে কঠিন হবে। ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই ট্রাম্পের বিদেশনীতি এবং তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ নিয়ে তদন্তের ইঙ্গিত দিয়েছে।
4
12
মার্কিন নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি করতে আগ্রহী হতে পারে। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের শর্তে চুক্তি করতে চাইবে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে চীন ও ভিয়েতনামের তুলনায় ভারত যাতে সুবিধাজনক শুল্কের সুযোগ পায়, সেই দাবি দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছে ভারত।
5
12
এছাড়া আমেরিকার বাণিজ্য আইনের ৩০১ নম্বর ধারায় ভারতের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জটিলতা রয়েছে।
6
12
কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রভাব নিয়ে তদন্ত ও আলোচনা বাড়তে পারে। তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের অধিকার থেকেই যাচ্ছে।
7
12
ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের জন্যও এই নির্বাচনের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসনের H-1B ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি এবং নতুন করে ১ লক্ষ ডলারের ফি চাপানোর সিদ্ধান্তে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
8
12
অনুমোদিত H-1B ভিসার প্রায় ৭৫ শতাংশই ভারতীয় নাগরিকদের দখলে। ডেমোক্র্যাটরা এই নীতির সমালোচনা করেছে। ফলে আগামী দিনে এই বিষয়ে প্রশাসনের উপর চাপ বাড়তে পারে। তবে ভারতের মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়েও ডেমোক্র্যাটদের প্রশ্ন তোলার সম্ভাবনা রয়েছে।
9
12
অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মহলের একাধিক ব্যবসায়িক চুক্তি এবার তদন্তের আওতায় আসতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো সংস্থা ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফিনান্সিয়ালের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা এবং মার্কিন সংস্থার সঙ্গে ড্রোন চুক্তি। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং নিউ ইয়র্কের রুজভেল্ট হোটেল সংস্কার নিয়েও চুক্তি হয়েছে।
10
12
ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত লেনদেন খতিয়ে দেখার ইঙ্গিত দিয়েছে। ফলে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের উদ্যোগে হওয়া চুক্তিগুলিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
11
12
সব মিলিয়ে বলা যায় মার্কিন কংগ্রেসে ক্ষমতার পালাবদল ভারতের জন্য বাণিজ্য আলোচনায় নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
12
12
অন্যদিকে, ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে পাকিস্তানের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে বাড়তে পারে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্বস্তি। তবে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের জটিলতা যে রাতারাতি মিটবে, এমনটা মনে করছেন না বিশেষজ্ঞরা।