কোডুমুর বিচ্ছু-রীতি: সাপ বা বিছের মতো বিষাক্ত প্রাণীর নাম শুনলেই অধিকাংশ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। কিন্তু অন্ধ্রপ্রদেশের কোডুমুরে ভক্তরা স্বেচ্ছায় খালি হাতে বিছে ধরেন এবং এদের কেন্দ্র করে আয়োজিত এক বিশেষ ধর্মীয় রীতিতে অংশ নেন। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার কুরনুল জেলার কোন্ডালারায়ুডু মন্দিরের প্রাঙ্গণে এই ব্যতিক্রমী প্রথাটি পালিত হয়।
2
5
খালি হাতে বিছে ধরা: কোডুমুরের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত এই মন্দিরে স্থানীয়রা ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরকে ‘কোন্ডালারায়ুডু’ রূপে পুজো করেন। প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবারে আশেপাশের গ্রাম থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত এখানে সমবেত হন। এই রীতির অংশ হিসেবে তাঁরা পাথরের নীচ থেকে বিছে খোঁজেন এবং বিষাক্ত প্রাণী হওয়া সত্ত্বেও কোনও ভয় ছাড়াই খালি হাতে সেগুলোকে তুলে নেন।
3
5
গর্ভগৃহে বিছে নিয়ে যাওয়া: ভক্তরা সুতো দিয়ে বিচ্ছুগুলোকে বেঁধে মন্দিরের গর্ভগৃহে নিয়ে যান এবং দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদন করেন। অনেকে মানত পূরণের সময় বিছে ব্যবহার করে বিশেষ ‘অভিষেক’ও সম্পন্ন করেন। স্থানীয় ভক্তদের দৃঢ় বিশ্বাস যে, এই বিশেষ পবিত্র দিনে খালি হাতে ধরা বিছে তাঁদের কোনও ক্ষতি করে না।
4
5
বিছের দংশন সংক্রান্ত বিশ্বাস: এই ব্যতিক্রমী রীতির সঙ্গে আরও একটি বিশ্বাস জড়িয়ে আছে। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, পুজোর সময় কোনো ভক্তকে বিছেতে দংশন করলে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দংশনের পরপরই মন্দিরের গর্ভগৃহ তিনবার প্রদক্ষিণ করলে বিষের প্রভাব কেটে যায় এবং ব্যথা উপশম হয়। এই বিশ্বাসের কারণেই ভক্তরা কোনও দ্বিধা ছাড়াই এই ঝুঁকিপূর্ণ রীতিতে অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছেন।
5
5
কোডুমুরের পরিচায়ক এক ঐতিহ্য: কোন্ডালারায়ুডু মন্দিরের এই বিরল উৎসব চলাকালীন কোডুমুরের পাহাড়গুলো ভক্তদের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং এলাকাটি যেন এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও স্থানীয়রা গভীর বিশ্বাসের সঙ্গে শতাব্দীর প্রাচীন এই বিচ্ছু-রীতি পালন করে চলেছেন। এই ব্যতিক্রমী প্রথাটি কোডুমুরের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ে পরিণত হয়েছে।