ক্যানসার চিকিৎসায় বড় স্বস্তি। এক ধাক্কায় বিপুল পরিমাণ কমল একাধিক জীবনদায়ী ওষুধের দাম। ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ১৩৭টি গোত্রের ৫৪৩টি ওষুধের সংশোধিত মূল্যতালিকা প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি।
2
12
তালিকা অনুযায়ী, কয়েকটি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বা এমআরপি প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। আগামী ৯ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে সংশোধিত দাম।
3
12
এই মূল্যহ্রাসের পিছনে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জীবনদায়ী ওষুধের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে শীর্ষ আদালতে একটি মামলা বিচারাধীন।
4
12
গত ২২ সেপ্টেম্বর শুনানির সময় বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ও বিচারপতি বিক্রম নাথের বেঞ্চ ক্যানসারের ওষুধের দাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালতে জানানো হয়, উৎপাদনকারী সংস্থা যে ওষুধ খুচরো বিক্রেতাকে ২,৭০০ টাকায় দিচ্ছে, সেটির এমআরপি ২৭ হাজার টাকা। এই বিপুল ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।
5
12
এর পরেই ক্যানসারের ১৩৭টি নন-শিডিউলড ওষুধের ক্ষেত্রে মুনাফার সীমা ৩০ শতাংশে বেঁধে দেওয়ার কথা ঘোষণা করে এনপিপিএ। পরবর্তী শুনানিতেও ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। তার পর প্রকাশিত হয় সংশোধিত মূল্যতালিকা।
6
12
নতুন তালিকায় স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। ‘পালবোব্রো’ ব্র্যান্ডের ১২৫ মিলিগ্রামের প্যাকের দাম ৪০ হাজার ৪২১ টাকা থেকে কমে হয়েছে ২,৭২০ টাকা।
7
12
অর্থাৎ দাম কমেছে প্রায় ৯৩.৩ শতাংশ। একই ওষুধের ১০০ মিলিগ্রামের প্যাকের ক্ষেত্রে ‘আইসোজেন’-এর দাম কমেছে ৯১.৬ শতাংশ। স্তন ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যানাস্ট্রোজ়ল ওষুধ ‘ওয়োমাজ়লে’র দাম ৪৫৮ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে কমে হয়েছে ৩৯ টাকা ৫২ পয়সা।
8
12
এনপিপিএ জানিয়েছে, ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকা সংশোধন করা হবে।
9
12
চিকিৎসকেরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের দাম না কমা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইমিউনোথেরাপির ওষুধ ‘কিট্রুডা’র দাম এখনও ২ লক্ষ ১৬ হাজার ৫০০ টাকা।
10
12
‘ক্রিক্সানা’র দামও রয়েছে ২৪ হাজার ৪৩৫ টাকা। ‘ট্যাগ্রিসো’, ‘টেসেনট্রিক’, ‘ডারজ়ালেক্স’ এবং ‘ইমফিনজি’র মতো ওষুধের এমআরপিতেও পরিবর্তন হয়নি।
11
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু এমআরপি কমালেই সাশ্রয়ী ক্যানসার চিকিৎসা নিশ্চিত হবে না। বেসরকারি হাসপাতালে রোগীদের বিলেও এই সুবিধার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
12
12
পাশাপাশি ওষুধের সরবরাহব্যবস্থা, মধ্যস্থতাকারীদের মুনাফা এবং মূল্যনিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানো জরুরি। চিকিৎসকদের বক্তব্য, জীবনদায়ী ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ হলেও পেটেন্ট-নির্ভর অত্যন্ত দামি ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।